রবিবার, ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিবাংলাদেশে এখন ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও যৌক্তিক
spot_img
spot_img

বাংলাদেশে এখন ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও যৌক্তিক

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির পাশাপাশি আমদানিতেও কিছুটা বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় এসব উদ্যোগ এবং বিশ্বব্যাপী ভোগ চাহিদা কমার কারণে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হলেও তা যৌক্তিক বলে মনে করেন সংস্থাটির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।

গত শুক্রবার মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় ‘ইকোনমিক আউটলুক ফর এশিয়া প্যাসিফিক’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তাঁর কাছে প্রশ্ন ছিল, সরকার চলতি অর্থবছরে সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে আইএমএফের পূর্বাভাস হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশ। কী কারণে তাদের পূর্বাভাস কম? জবাবে তিনি বলেন, এটি খুবই স্বাভাবিক বিষয় যে আইএমএফের দেওয়া পূর্বাভাসের চেয়ে প্রতিটি দেশ বেশি অর্জন করতে চাইবে। এ ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকবেই। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না, বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণেই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, বিশ্ববাজারে পণ্যের চাহিদা কমেছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাসংকোচন নীতির আওতায় বাংলাদেশও রয়েছে। এসব বিষয় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব বিস্তার করে। এসব কারণেই আইএমএফ প্রবৃদ্ধি আগের অর্থবছরের মতো ৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

উল্লেখ্য, আইএমএফ গত এপ্রিলে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করে সাড়ে ৬ শতাংশ। তবে গত ১০ অক্টোবর প্রকাশিত সংস্থাটির ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদন প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কমিয়ে ৬ শতাংশ করা হয়েছে।

কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, বাংলাদেশ সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেয়ে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়া। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। আমদানি নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। বিনিময় হারে নমনীয়তা এনেছে এবং একক বিনিময় হারের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হলেও তা যৌক্তিক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য হারে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি দেশেরই প্রবৃদ্ধিবর্ধক সংস্কার এগিয়ে নিতে অবশ্যই প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে সফল হয়ে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার উপযুক্ত পথেই রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে শুধু প্রবৃদ্ধির কথা না ভেবে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার কথা ভাবাই ঠিক হবে। উন্নয়ন ও অবকাঠামো উভয় ক্ষেত্রে লক্ষ্যগুলো অর্জনে সহযোগিতা করার জন্য রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের রাজস্ব বাড়লে সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রেখে শিক্ষা ও অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা পূরণে প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যয় করার সুযোগ হবে।

উল্লেখ্য, আইএমএফ গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর তিন দিন পর প্রথম কিস্তিতে ছাড় করে ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আগামী নভেম্বর নাগাদ দ্বিতীয় কিস্তির প্রায় ৬৬ কোটি ডলার ছাড় করার কথা রয়েছে। এ ঋণের জন্য চলতি বছরের প্রথমার্ধে মোটাদাগে যেসব শর্ত দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন ও দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঢাকা সফর করছে সংস্থাটির এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলটি ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রাজস্ব বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে। আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে থাকবে। এ ঋণ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে মোট সাত কিস্তিতে পুরো অর্থ দেওয়ার কথা রয়েছে। আইএমএফের ঋণ নিতে ছোট-বড় ৩৮টি শর্ত পূরণ করতে হবে বাংলাদেশকে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments