
অভিযোগ রয়েছে, আলহাজ্বের পরিচালকরা নানা অজুহাত দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া পায়তারা করছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এ কোম্পানির পরিচালক শামসুল হুদার আইন লঙ্ঘন করে শেয়ার বিক্রি করায় তাঁর হাতে থাকা সব ধরনের সিকিউরিটিজ জব্দ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়: আলহাজ্ব জুট মিলস গত দেড় বছর যাবৎ পাট সরবরাহকারীদের (পাইকার) প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। পাওনা টাকা পেতে পাট সরবরাহকারীরা প্রতিদিনই কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়ে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেন। কিন্তু কোম্পানির কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের সাথে দেখাও করেন না।
এ প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বকুল সরকার নামে একজন পাট সরবরাহকারী পাওনাদার ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে জানান, আমরা টাকা পাওয়ার আশায় গত দেড় বছর ধরে জামালপুর, সরিষাবাড়ী থেকে ঢাকায় আসা যাওয়া করতে করতে পায়ের জুতা ক্ষয় করে ফেলেছি। এদিন হয়ে গেছে তার পরেও আমাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করছে না তারা।
তিনি আরো বলেন, অনেক কষ্টে কোম্পানির একজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি আমরা, তিনি আমাদেরকে বলেছে তাদের ফান্ডে কোনো টাকা নাই। ফ্যাক্টরী বন্ধ তাই তারা এখন টাকা দিতে পারবেনা। এখন আমরা কি করবো? কার কাছে যাবো? কার কাছে বললে আমাদের পাওনা টাকা আমরা পাবো?
সরেজমিনে আলহাজ্ব টেক্সটাইলের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কথা বলতে চাইলে কেউই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে মুঠোফোনে কোম্পানির চীফ অ্যাকাউন্ট্যান্ট আব্দুস সালাম ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে জানান, কোম্পানির অফিস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফ্যাক্টরীতে উৎপাদন বন্ধ তাই পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে না। মালিকপক্ষের কেউই অফিসে আসেন না বলে জানান তিনি।
একদিকে আলহাজ্ব জুট পাওনারদের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছে। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে আলহাজ্ব টেক্সটাইল শেয়ার কারসাজি করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। কোম্পানিটির পরিচালক শামসুল হুদার আইন লঙ্ঘন করে শেয়ার বিক্রি করায় তাঁর হাতে থাকা সব ধরনের সিকিউরিটিজ জব্দ করা হয়েছে। শামসুল হুদা ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আলহাজ টেক্সটাইলের প্রায় ৫ লাখ শেয়ার বিক্রি করেছেন। তার বিপরীতে কিনেছেন ৯ হাজার ১০০ শেয়ার। ডিএসইর সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস বা ট্রেক হোল্ডার এএনএফ ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে তিনি এ শেয়ার কেনাবেচা করেন। শামসুল হুদা নিজেই এ ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ উদ্যোক্তার বিপুল শেয়ার বিক্রির ফলে আলহাজ্ব টেক্সটাইলের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ারধারণের পরিমাণ ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বর্তমানে কোম্পানিটির সম্মলিতভাবে শেয়ার ধারণের পরিমাণ ১২.৭৮ শতাংশ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ./এম


























Recent Comments