ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদরদপ্তরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলা হয়েছে সিরিয়ায় ইরানবিরোধী সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর ওপরও। সোমবার মধ্যরাতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের চালানো এসব হামলা ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে ‘বেপরোয়া’ ও ‘যথার্থ নয়’ বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরাকের আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে ইসরায়েলের গোয়েন্দাদের অন্যতম প্রধান সদরদপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েলের হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার ও সদস্যরা নিহত হওয়ায় জবাবে তারা এ হামলা চালিয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, এসব স্থাপনা থেকে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হতো। আইআরজিসি বলছে, এরবিলের আরও কয়েকটি স্থানে তারা হামলা চালিয়েছে।
কুর্দিস্তান অঞ্চলের নিরাপত্তা কাউন্সিলের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানায়, এসব হামলায় কমপক্ষে চারজন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ছয়জন। নিহতদের মধ্যে মিলিয়নেয়ার পেশরাও দিজায়ি ও তাঁর পরিবারের সদস্য রয়েছেন। একটি ক্ষেপণাস্ত্র কুর্দিস্তানের জ্যেষ্ঠ এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বাড়িতেও আঘাত হানে।
ওই এলাকায় থাকা সিএনএনের সংবাদদাতা জানান, ইরানের হামলায় খ্যাতিমান একজন কুর্দি ব্যবসায়ীর বড় আকারের একটি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। ওই ভবনটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যে পরিণত করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কুর্দিস্তানের নিরাপত্তা কাউন্সিল বলছে, এটা ইরাক ও কুর্দিস্তান অঞ্চলের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
আইআরজিসি বলছে, তারা সিরিয়ার অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে ইরানবিরোধী সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি ইরানের কারমেন শহরে কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির সমাধির কাছে জোড়া বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা এসব স্থান থেকে হয়েছিল। ৩ জানুয়ারি চালানো ওই জোড়া হামলায় শতাধিক নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। এ হামলার পেছনে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হাত রয়েছে বলে দাবি করে আসছে ইরান।
ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তারা উত্তর ইরাক ও উত্তর সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থাপনাকে লক্ষ্যে পরিণত করা হয়নি। তারা পরিস্থিতি যাচাই করে দেখবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, হামলায় এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ও নির্মাণাধীন নতুন কম্পাউন্ডের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কোনো মার্কিনিও হতাহত হননি। ইরানের এ হামলা গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধকে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকিকে আরও জোরালো করেছে। যদি এমনটা হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে এর মানবিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব হবে ভয়াবহ।
ইয়েমেনের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মালবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ‘জিব্রাল্টার ঈগল’ নামের জাহাজে হামলা হয়েছে। এতে কেউ আহত হননি।
বিবিসি জানায়, মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের হলেও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী জাহাজটি এডেন উপসাগরে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে ইরানসমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা গত নভেম্বর মাস থেকে পণ্যবাহী জাহাজের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।
জাহাজটির মালিক ঈগল বাল্ক শিপিং কোম্পানি জানিয়েছে, তারা জাহাজটিতে স্টিল জাতীয় পণ্য বহন করছিল। হামলার সময় এটি এডেন উপসাগরের উপকূল থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে ছিল। হামলায় জাহাজের সামান্য ক্ষতি হয়েছে। এটি গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments