রবিবার, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅন্যান্যচালের পর এবার ডিম মাছের বাজারও চড়া
spot_img
spot_img

চালের পর এবার ডিম মাছের বাজারও চড়া

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: প্রধান খাদ্যশস্য চালের পর এবার ডিম-মাছের বাজারও চড়া। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ৫ টাকা বেড়েছে। গরু ও মুরগির মাংসের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে মাছের বাজারে। তাতে দর বেড়েছে সব ধরনের মাছের। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের এমন চড়া দামে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা একের পর এক পণ্যের দর বাড়াচ্ছে। নামকাওয়াস্তে বাজারে অভিযান হলেও কার্যত এর সুফল পাচ্ছে না ভোক্তারা। তাই পণ্যের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারকে নতুন করে ভাবতে হবে।

ভরা মৌসুমেও বাজারে এখন সব ধরনের সবজির দাম চড়া। গতকাল মগবাজার, সেগুনবাগিচা, মালিবাগ ও যাত্রাবাড়ী কোনাপাড়া বাজারে দেখা গেছে, ছোট আকারের একটা লাউ কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা। শিমের কেজিতে খরচ করা লাগে ৭০-৮০ টাকা। ফুল ও বাঁধাকপির পিস আকারভেদে ৬০-৬৫ টাকা। আলুর কেজি এখনও ৫০-৫৫ টাকার বেশি। সবজির চড়া দামের কারণে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছে ডিমের দোকানে। গত বছর ডিমের বাজার বেশ বেসামাল হয়েছিল। বিশেষ করে গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে দর বেড়ে এক পর্যায়ে ডিমের ডজন ছুঁয়েছিল ১৭০ টাকা। এরপর সরকার আমদানির অনুমতি দিলে বাজার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৭০ টাকার ডিমের ডজন কমে নেমে আসে ১২০ টাকায়। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে। তবে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর বাজারে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দর বেড়ে যায়। ডিমের বাজারও কিছুটা নড়েচড়ে ওঠে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দর বেড়েছে ৫ টাকা। ফলে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে এখন ১৩০-১৩৫ টাকা। তবে পাড়া-মহল্লার দোকান থেকে কিনতে গেলে ডজনে আরও ৫ টাকা বেশি খরচ করতে হয়। অর্থাৎ ডজনে গুনতে হচ্ছে ১৪০ টাকা। সেই হিসাবে ডজনে বেড়েছে ৫-১০ টাকা।

গত বছরের শেষ দুই মাস মাংস বিক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল ক্রেতাদের। স্ব-উদ্যোগেই তারা দর কমিয়ে ৬০০-৬৫০ টাকা বিক্রি শুরু করে গরুর মাংস। তবে নির্বাচনের পর তারা আবার কেজিতে ৫০-১০০ টাকা বাড়িয়ে দেন। তাতে প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় ৭০০ টাকা। দুই দিন ধরে দেশি গরুর মাংস তকমা দিয়ে কেউ কেউ ৭৫০ টাকা দরেও বিক্রি করছেন।

ব্রয়লার মুরগির দরও বাড়তি। গত ১৫ থেকে ২০ দিনে ধীরে ধীরে বেড়ে ব্রয়লারের কেজি ২০০-২১০ টাকা ছাড়িয়েছে। কেজিতে ২০ টাকার মতো বেড়ে সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৩০ টাকা দরে।
গরুর মাংস ও ব্রয়লারের দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মাছের বাজারে। কিছু দিন ধরে বাড়ছে সব ধরনের মাছের দাম। স্বল্প আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি কিনেন পাঙাশ, তেলাপিয়া ও চাষের কই।

বাজারে এই তিন পদের মাছের দর বেড়েছে। প্রতি কেজি পাঙাশ ২১০-২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া তেলাপিয়ার কেজি ২৪০-২৫০ টাকা এবং চাষের কই মাছের কেজি ২৬০-২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ আগে এ তিন জাতের মাছ অন্তত ৩০ টাকা কম দরে কেনা গেছে।

বাজারে প্রতি কেজি রুই আকারভেদে ৩২০-৪৫০ টাকা এবং কাতলার কেজি ৩৫০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাবদার কেজি ৪০০-৪৬০ টাকা, শিং মাছ আকারভেদে কেজি ৪৮০-৬২০, চিংড়ির কেজি আকারভেদে ৫৫০-৮৩০, ছোট ট্যাংরা মাছের কেজি ৫০০-৬০০ এবং বোয়াল মাছের কেজি ৭০০-৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ-মাংস, সবজি ছাড়াও বাজারে বেড়েছে সব ধরনের ডালের দাম। বিশেষ করে ছোলা, অ্যাংকর ও মুগ ডালের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। ছোলার কেজি মানভেদে ১০০-১১০, অ্যাংকর ডাল ৭৫-৮০ এবং মুগ ডালের কেজি ১৫০-১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments