ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: স্বপ্নের মতো সূচনা হয়েছিল সিলেটে। কিন্তু সেই সূচনাকে ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। বৃষ্টিভেজা সকালে উইকেটের আর্দ্রতা কাজে লাগিয়ে ৫৭ রানে শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন স্বাগতিক পেসাররা, যেখানে নেতৃত্বে ছিলেন সিলেটের ছেলে খালেদ আহমেদ। তবে অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিসের সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। এর পর আবার ধস। এবার নাহিদ রানার নেতৃত্বে ২১ রানে শ্রীলঙ্কার শেষ ৫ উইকেট তুলে নেয় স্বাগতিকরা। কিন্তু সফরকারীদের ২৮০ রানে গুটিয়ে দিয়েও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। শেষ বিকেলে ৪৫ মিনিট ব্যাটিং করে ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসেছে স্বাগতিকরা। এখনও শ্রীলঙ্কার চেয়ে ২৪৮ রানে পিছিয়ে তারা।

লঙ্কানরা যদি আজ সকালের কন্ডিশন কাজে লাগাতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের সামনে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। অবশ্য কন্ডিশন যেমনই হোক, লড়াই করার মানসিকতা তো থাকতে হবে। গতকাল শেষ বিকেলে স্বাগতিকদের ব্যাট চালানোয় সেই মানসিকতা দেখা যায়নি। লঙ্কান পেসার ফার্নান্দোর লাইন-লেন্থে পড়া প্রথম ডেলিভারিতেই পরাস্ত হয়ে এলবির ফাঁদে পড়েছেন ওপেনার জাকির হাসান। তাও তিনি নিজেকে কিছুটা দুর্ভাগা ভাবতে পারেন ‘আম্পায়ার্স কল’ বলেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তো ব্যাটই নামাতে পারেননি। বরং ফার্নান্দোর সুইং করে ভেতরে ঢোকা বলে স্টাম্পের সামনে এভাবে পরাস্ত হওয়ার পরও কেন তিনি রিভিউ নিলেন, সেটা নিয়ে বরং প্রশ্ন উঠতে পারে। কেউ যদি বিষয়টিকে অধিনায়কের ক্ষমতাচর্চা বলে মনে করে বসেন, তাহলে কিন্তু দোষ দেওয়া যাবে না। স্বচ্ছন্দ ছিলেন না অভিজ্ঞ মুমিনুল হকও। কাসুন রাজিথার লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে ঠিকঠাক ব্যাট চালাতে না পেরে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় অপরাজিত আছেন ৯ রানে, তাঁর সঙ্গে আছেন নাইটওয়াচম্যান তাইজুল ইসলাম।
অথচ দিনের শুরুটা কী চমৎকার ছিল! সিলেটের সবুজ উইকেট ও মেঘলা কন্ডিশনে টস জিতে ফিল্ডিং নিতে এক মুহূর্তও দ্বিধায় ভোগেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত। অধিনায়কের টস জয়কে কাজে লাগিয়ে ঝড় তোলেন বাংলাদেশের পেসাররা। দ্বিতীয় ওভারেই সিলেটের ছেলে খালেদ লঙ্কান ওপেনার নিশান মাদুশকাকে ফিরিয়ে শুরু করেন। দ্বাদশ ওভারে গিয়ে জোড়া আঘাত হানেন খালেদ। কুশল মেন্ডিসকে গালিতে জাকির হাসানের হাতে ক্যাচ বানানোর চার বল পর দুরন্ত এক ডেলিভারিতে দিমুথ করুণারত্নের স্টাম্প ছত্রখান করে দেন ডানহাতি এ পেসার। তাঁর পরের ওভারে শান্তর সরাসরি থ্রোতে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস রানআউট হলে ৫০ রানের আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা। এর পর শরিফুলের পাতা ফাঁদে দীনেশ চান্দিমাল ক্যাচ তুলে দিলে ঘোর বিপদে পড়ে সফরকারীরা। এই ঘোর বিপদ থেকে দলকে উদ্ধার করেন অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিস। ষষ্ঠ উইকেটে ২০২ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন তারা। দু’জনেই ১০২ রান করে অভিষিক্ত পেসার নাহিদ রানার শিকারে পরিণত হন। অথচ কোনো রান সংগ্রহের আগেই সাজঘরে ফিরতে পারতেন কামিন্দু মেন্ডিস। উইকেটে এসেই শরিফুলের বলে স্লিপে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হাতে যাওয়ার পরও সেকেন্ড স্লিপে সেটি ধরতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। বড় মূল্য দিতে হয়েছে এই একটি মিসের।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.


































Recent Comments