ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: পৃথিবীর সব রং নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন/ তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;/ সব পাখি ঘরে আসে– সব নদী– ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;– জীবনানন্দ দাশ তাঁর বিখ্যাত কবিতা বনলতা সেন এভাবেই এঁকেছেন জীবনের এক চরম সমাপ্তির প্রতিচ্ছবি।

সময়ের পরিক্রমায় একদিন সবাইকে থামতে হয়, ফিরতে হয় আপন নীড়ে। ঠিক যেমনটা লিওনেল মেসির বেলায় হতে চলেছে। দেখতে দেখতে ৩৬ বসন্ত পার করেছেন এই ফুটবল যুবরাজ। যে ফুটবলের জন্য তাঁকে চিনেছে বিশ্ব। যে জার্সির জন্য তাঁকে ভালোবেসেছে কোটি প্রাণ। সেই ফুটবল সেই আকাশি-সাদা জার্সিটা এবার তুলে রাখার সময়। হয়তো আর কিছুদিন, এর পর আনুষ্ঠানিকভাবে চোখের জলে বিদায়টা বলেই দেবেন লিও।
তার আগে লাতিন ফুটবলের আরেকটি মর্যাদার টুর্নামেন্ট কোপা আমেরিকায় শেষবারের মতো দেখা যাবে তাঁকে। হ্যাঁ, এখনও গুঞ্জন আছে– ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলবেন। কিন্তু সত্য-মিথ্যা কতটুকু, সেটা বলা মুশকিল। তবে তাঁর যে এটাই শেষের শুরু, সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্বকাপে যদি তাঁকে আরেকবার দেখাও যায়, তবে নিশ্চিতভাবে এটাই শেষ কোপা আমেরিকা। এর পর আর দেশের হয়ে এই প্রতিযোগিতায় নামা হবে না নাম্বার টেনের।
কম তো হয়নি। এবারসহ গুনে গুনে সাতটি আসর। এর মধ্যে চারবার ফাইনাল। দু’বার সেরা খেলোয়াড় হওয়া। একবার শিরোপা উঁচিয়ে ধরা। অবশ্য এই পথচলায় মেসির আনন্দের চেয়ে হতাশার দিনগুলোই ছিল বেশি। তাঁকে কাঁদতে হয়েছে অনেক। অপেক্ষা করতে হয়েছে বহুদিন। এখনও কিন্তু স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও ভাবছেন আর্জেন্টিনা আরেকটি বিশ্বকাপ জিতবে। তবে সবার সেরা যে কাতার বিশ্বকাপ, সেটাও মনে করিয়ে দিলেন এই কিংবদন্তি।
সম্প্রতি আমেরিকা টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘আমরা এমন কিছু আর কখনোই দেখব না, এই বিশ্বকাপের জেতার পর যা দেখেছি। মানুষ অনেক বেশি আগ্রহী ও অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করছিল আবার শিরোপা উদযাপনের জন্য। এটা ছিল পাগলাটে। এমনকি আমরা যদি আবার চ্যাম্পিয়নও হয়ে যাই। আমার মনে হয় না মানুষ এ ধরনের অভিজ্ঞতা আর পাবে। আমি আশা করি, আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবো।
এক জীবনে আর কী বা চাওয়ার থাকে। বার্সার হয়ে প্রায় সব শিরোপা জেতা। এর পর পিএসজিতে কিছুদিন কাটিয়ে ইউরোপ অধ্যায়ের ইতি টানা। শেষ দিকে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল লিগে পরিবার-পরিজন নিয়ে দারুণ একটা সময় কাটানো। এখন দীর্ঘ এই যাত্রা থামিয়ে দেওয়ার অপেক্ষা মাত্র। এটা ঠিক তাঁর অতীতের পথগুলো ছিল বেশ দুস্তর। অনেক অপ্রাপ্তি আর না পাওয়ার বেদনায় কাঁদতে হয়েছে বহুবার। শেষমেশ মুক্তির আনন্দ নিয়েই ক্যারিয়ারের গোধূলিটা উপভোগ করতে চাচ্ছেন।
আরেকটা শেষের আঙিনা সাজিয়েছেন দারুণ রোমাঞ্চ দিয়ে, ‘বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরে যাওয়ার কাঁটা থেকে মুক্তি পেয়েছি। অনেকেই বলেছে, তারা আমাকে বিশ্বকাপ জিততে দেখতে চায়, এমনকি আমার সতীর্থরাও। এটা খুব সুন্দর ব্যাপার, আমি ক্যারিয়ারজুড়ে পাওয়া তাদের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞ। দলটির সঙ্গে থাকা, তাদের সঙ্গে সময় কাটানো মুহূর্তগুলো সত্যিই অনেক মূল্যবান। কারণ, আমি ভালো করেই জানি, এর শেষ দেখতে খুব বেশি দিন বাকি নেই।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments