শনিবার, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআন্তজার্তিকআলোচনায় ফেরার সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি ইরান
spot_img
spot_img

আলোচনায় ফেরার সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি ইরান

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় ফিরবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধের মধ্যেই এ অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

শনিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’ এর আগে ইরানের সংবাদমাধ্যম শারাহারা নিউজকেও একই কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

তিনি জানিয়েছেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং বার্তা আদান-প্রদান করছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

আরাগচির অভিযোগ, জুনে পাকিস্তানে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই আবার সংঘাত শুরু হয়েছে। এখন যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার জন্য নতুন পথ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়েও ইরান আলাদাভাবে ওমানের সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে রাজনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওই পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে না। আরাগচি বলেছেন, আগের নৌপথগুলো এখন আর কার্যকর নেই। তাই আপাতত একটি বিকল্প পথ তৈরি করা হচ্ছে, যা পরবর্তী সময়ে স্থায়ী নৌপথে রূপ নিতে পারে।

তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবার শুরু হবে কি না, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রকে তার কিছু শর্ত পূরণ করার ওপর।

এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পরাজিত করার পর তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।’

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় এ ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।

অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছয় মাসের যুদ্ধে ইরানের নেতৃত্ব উৎখাত কিংবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের ওপর শিগগিরই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার দাবি, নজিরবিহীন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে, যাতে ইরানের বন্দর দিয়ে কোনো পণ্য প্রবেশ বা বের হতে না পারে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থ লেনদেনে সহায়তাকারী মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান ও ভুয়া কোম্পানিগুলোর একটি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় গোপনে শত শত কোটি ডলার সরিয়েছে।

তবে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ তেহরানের ওপর ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইরানে একাধিকবার বড় বিক্ষোভ হলেও তা এখন পর্যন্ত সরকার পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও হোয়াইট হাউজের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মার্ক গিন্সবার্গের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রেরও স্পষ্ট কোনো সমাধান কৌশল নেই। তার ভাষায়, দুই পক্ষ এখন এমন এক অর্থনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সংঘর্ষের আগে কে সরে দাঁড়াবে, সেটিই মূল প্রশ্ন।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments