নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবসায় দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সদ্য বিদায়ী বছরে (৩০ জুন ২০২৫) সর্বনিম্ন মুনাফা করেছে। শুধু তাই নয়, সহযোগী কোম্পানিগুলোরও নাজুক দশা। টানা দেড় যুগের বেশি সময় ধরে সফলতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করলেও ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখ পরর্বতী সামিট পাওয়ার ও তার সহযোগী কোম্পানির বেহাল দশায় সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে খাত সংশ্লিষ্টরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, সকলের মনে প্রশ্ন জেগেছে দেড় যুগের বেশি সময় ধরে ব্যবসায়ীক সফলতা দেখানো সামিট পাওয়ারের কি এমন সমস্যা দেখা দিলো যে গত দেড় বছরে ব্যবসা তলানিতে গিয়ে ঠেকলো। জোড়ালো তদন্ত করে কোম্পানিটির এমন পরিস্থিতির সঠিক তথ্য বের করা উচিত বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সামিট পাওয়ার বিদেশে অর্থ পাচার করে আসছে। আর এ সমস্ত অর্থের অধিকাংশই কোম্পানির মুনাফার। এছাড়াও সহযোগী কোম্পানিগুলোর ব্যবসাও ভালো অবস্থায় নেই। ফলে সকলের মনে প্রশ্ন জেগেছে আগামীতে কি আদৌ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে সামিট পাওয়ার। নাকি ব্যবসায়িকভাবে অতল গভীরে তলিয়ে যাবে কোম্পানিটি? এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তাদের মনে।
(সামিট পাওয়ারের অনিয়ম নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশ করা হলো প্রথম পর্ব। খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় পর্ব।)
তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরে (৩০ জুন, ২০২৫) সামিট পাওয়ার সমন্বিতভাবে নিট প্রফিট বা মুনাফা হয়েছে ৩৩৯ কোটি ৬ লাখ ২৬ হাজার ৪৩৯ টাকা। এর আগের বছর যা ছিল ৫৫৫ কোটি ৯৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৬ টাকা। একবছরের ব্যবধানে মুনাফা কমেছে ২১৬ কোটি ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ১৩৭ টাকা বা ৩৯ শতাংশ। তবে এককভাবে কোম্পানিটি সদ্য বিদায়ী বছরে লোকসান করেছে ১৪৮ কোটি ৬৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬৮৪ টাকা। এর আগের বছর এককভাবে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছিল ১৮৯ কোটি ৪২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩৮ টাকা। এক্ষেত্রে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির এককভাবে অধঃপতন হয়েছে ৩৩৮ কোটি ৮ লাখ দুই হাজার ৬২২ টাকা বা ১৭৮ শতাংশ।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরে সামিট পাওয়ারের সমন্বিতভাবে রেভেনিউ বা বিক্রয় রাজস্ব হয়েছে ৪ হাজার ২২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫৩ টাকা। এর আগের বছর যা ছিল ৪ হাজার ৫২০ কোটি ৪৫ লাখ ৭৯ হাজার ২৬৬ টাকা। এক্ষেত্রে এক বছরের ব্যবধানে বিক্রয় রাজস্ব কমেছে ২৯৬ কোটি ৯ লাখ ৩৪ হাজার ৪১৩ টাকা বা ৭ শতাংশ।

এদিকে তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, সহযোগী কোম্পানি সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরেক কোম্পানি খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডে বিনিয়োগ থাকলেও সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে সদ্য বিদায়ী বছরে কোনো ডিভিডেন্ড পায়নি সামিট পাওয়ার। কারণ সেসমস্ত কোম্পানিগুলোও ব্যবসায়িকভাবে ভালো অবস্থায় নেই।
তথ্য বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারে সামিট পাওয়ার বিনিয়োগ করেছিল ৩৬২ কোটি ৫২ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৪ টাকা। সদ্য বিদায়ী বছরে সেই বিনিয়োগের বাজার মূল্য এসে দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি ৯০ লাখ ১৭ হাজার ৭৯ টাকা।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরে সামিট পাওয়ারের স্বল্প মেয়াদি ডিপোজিট থেকে সুদজনিত আয় কমেছে। উল্লেখিত বছরে স্বল্প মেয়াদি ডিপোজিটের বিপরীতে সুদজনিত আয় হয়েছিল ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। এর আগের বছর যা ছিল ৮ কোটি ৪৭ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ টাকা। এ ক্ষেত্রে এক বছরের ব্যবধানে সুদজনিত আয় কমেছে এক কোটি ৮৮ লাখ ২১ হাজার ৬১২ টাকা বা ২২ শতাংশ।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় সকল দিক দিয়ে সামিট পাওয়ার ভালো অবস্থায় নেই।
এসব ব্যাপারে জানতে সামিট পাওয়ারের কোম্পানি সচিব তোফায়েল আহমেদকে ফোন করা হলে তিনি জনসংযোগ বিভাগের মোহসিনা’র সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। পরবর্তীতে মোহসিনাকে একাধিকবার ফোন কল ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনা সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সামিট পাওয়ারের অনুমোদিত মূলধন এক হাজার ৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যেখানে উদ্যোক্তা/পরিচালকদের শেয়ার রয়েছে ৬৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ১৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ১৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ
























Recent Comments