বৃহস্পতিবার, ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআজকের সংবাদকতটুক করা সম্ভব তা টেবিলে বসলে বোঝা যায়: বিএসইসির চেয়ারম্যান
spot_img
spot_img

কতটুক করা সম্ভব তা টেবিলে বসলে বোঝা যায়: বিএসইসির চেয়ারম্যান

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, কতটুক কাজ করা সম্ভব আর কতটুক করা সম্ভব নয়, সেটা টেবিলে বসলে বোঝা যায়। কারণ আমি তো একা কাজ করতে পারবো না। আমাকে অনেক লোক নিয়ে কাজ করতে হয়। সে লোকগুলা যদি প্রস্তুত না থাকে তাহলে কিছুই করা যায় না।

আমি যখন এই সংস্থার বাইরে ছিলাম, তখন একভাবে ভাবতাম। কিন্তু যখনই এই সংস্থা এসে কাজ শুরু করলাম, তখন আবার অন্যভাবে ভাবতে হচ্ছে। বাস্তবতার নিড়িখে এখানে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সবসময় পুস্তক অনুযায়ী এখানে কাজ করলে হয় না। বাস্তব দুনিয়া ভিন্ন। আমি অনেক কিছু করতে চাই, কিন্তু আমি এখন বা আগামী দুই বছরের মধ্যে সেগুলা করতে পারবো না। কারণ এখনো অনেক কিছু প্রস্তত না।

শনিবার সকাল ১০টায়, ঢাকার হোটেল ওয়েষ্টিনে যৌথভাবে সিএমজেএফ ও বিএমবিএ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজার: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ গোলটেবিল বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমবিএ সভাপতি ছায়েদুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সিএমজেএফ সভাপতি জিয়াউর রহমান। এতে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমবিএ’র নেতা মনিরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, অধ্যাপক খায়রুল হোসেন, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, এএএমসিএমএফ, আইসিএবি, আইসিএমএবি, আইসিএসবির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আজকে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তার ভালো খারাপ সবটাই জানতে পারলাম। সামনের দিকে কাজ করতে গেল এই বিষয়গুলো আমাদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিবে। আসলে অর্থনৈতিক যে বিষয়টি আপনারা বিভিন্ন সময়ে তুলনা করেন, তুলনা কাদের সাথে করেন ওটা আগে দেখবেন। যেখানে মানুষ টাকা জমা রাখলে যারা সঞ্চয় করে, যারা বিনিয়োগ করে, তারা তো সেটা রির্টানের জন্য করে, একটা অপশন থাকে তাদের হাতে। এছাড়াতো তারা কোথাও থেকে এক টাকাও পাবে না। দেশে বিদেশে বিনিয়োগ অথবা নিজের দেশে ক্যাপিটাল থেকে যেদিকে পাওয়া যাবে, তারা পাওয়া যাবে সেদিকে যায়।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে এখন যে অবস্থা এফডিআর এর সুদহার ৭% এর কাছাকাছি হয়ে গেছে। আমাদের লোনের যে রেট তা ৯% এর আশেপাশে। আমাদের ইনফুলুয়েশন ঋণ এখন ৬% এর আশেপাশে। এ রকম অবস্থায় আমাদের দেখে নিতে হবে, আমরা যাদের সাথে তুলনা করছি, তাদের ইকোনমি আর আমাদের ইকোনোমি এক কি না। আপনারা এখানে যারা আছেন সকলে দেশপ্রেমিক এবং সবাই ক্যাপিটাল মার্কেটকে ভালোবাসেন বলেই তুলনা করার আগেই একটু দেখে নিতে হবে। সমালোচনা অবশ্যই করবেন, তবে কার সাথে সমালোচনা করছেন সেটা অবশ্যই একটু দেখে নিবেন।

তিনি আরও বলেন, ফাইন্যান্সিয়াল লিটেরেসি যদি না থাকে, তাহলে কত দূর এগোতো পারবে বা কয়টা লোক নিয়ে এগোতে পারবো। আমি যেখানেই ডিজিটালে কাজ করতে যাই, সেখানেই আইটিতে লোক পাই না। মার্কেটে কাজ করতে গিয়ে যখন দেখি আইটিতে লোক নাই, তাহলে এই মার্কেট প্লে করবে কারা। তাই প্রথমেই আমাদের লিটারেসি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

বিএসইসির এই চেয়ারম্যান বলেন, কোন দরকার না থাকা শর্তেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে এখন আমাদের ইন্টার্নশীপ করাতে হচ্ছে। আমাদের কাছে আসলেই আমরা মার্চেন্ট ব্যাংক বা মিউচ্যুয়াল ফান্ডে পাঠিয়ে দিচ্ছি। কারণ তারা সেখানে গিয়ে একটু শিখুক। কারণ বাংলাদেশে এই মুহুর্তে প্রথম সমস্যা হচ্ছে এখানে এখন ক্যাপিটাল মার্কেট বোঝা লোকের সংখ্যা এত কম যে, না বুঝেও অনেকে অনেক কথা বলে ফেলছে, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আর ওসবের কারণেও মানুষ আমাদের ভুল বুঝছে।

প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত বলেন, সরকারি কোম্পানি তার্লিকাভুক্তি নিয়ে কথা আসছে। অর্থমন্ত্রী চাচ্ছেন, কোম্পানি বাজারে আনতে। কিন্তু কোম্পানিগুলোর বোর্ড চায় না। তারমতে, পরিচালনায় গতিশীলতা আনতে এসব কোম্পানির বোর্ড ভেঙ্গে দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, আমরা নতুন পণ্য চালু করতে চাই। কিন্তু দক্ষ লোকের খুবই অভাব। তবে তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রস্তুত থাকলে এই মাসেই সরকারি সিকিউরিটিজ চালু হবে। এরফলে বাজার মূলধন জিডিপির ২৫ শতাংশে চলে যাবে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর যেভাবে সহযোগিতা করছে, তাতে কিছু দিনের মধ্যেই আমরা বন্ড মার্কেট শক্তিশালী দেখবো।

বিএসইসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, একজন জুয়াড়ি ধরতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। স্টক এক্সচেঞ্জ তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত দিলে আমরা তাদেরকে ধরতে পারি। তারপর নিয়ম অনুসারে তথ্য প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে শাস্তি দিতে ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লেগে যায়। ততক্ষণে বিনিয়োগকারী ও বাজারের যা ক্ষতি করার তা করে ফেলে।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের যে কোনো বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয়, মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রী সবসময় সচেতন। তিনি বলেন, নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা গত ২ বছর ৩৬টি কোম্পানির আইপিও দিয়েছি। এই সময়ে ৩ হাজার ২৪০ জন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম এইচ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments