
ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক:
কোনও এক মেজরের বাঁশির ফুঁতে দেশে যুদ্ধ শুরু হয়নি বা দেশ স্বাধীন হয়নি। অথচ সে নিজেই চাকরি করত বাংলাদেশ সরকারের অধীনে। ৪০০ টাকা বেতন পেতো। তাকেই ঘোষক বানানোর চেষ্টা হয়েছিল। ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে অনেকে অনেক কথাই বলেছেন। আমি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব না। আমি শুধু বলব, অনেকে উচ্চারণ করেছেন। আমি শুধু বলব ৭ মার্চের ভাষণের একেকটি লাইনই একেকটি কোটেশন। আর সেই লাইনগুলো ছিল সেই সময়ের জন্য প্রযোজ্য। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের পটভূমি হয়তো অনেকে জানেন। ওই সময় অনেকে অনেক পরামর্শ দিয়েছিলেন। অনেক জ্ঞানী-গুণী লিখিত আকারে ভাষণ তৈরি করে দিয়েছিলেন। আমাদের ছাত্র নেতারা, তাদের অনেকেই পরে আর আমাদের সঙ্গে থাকেনি, তারা বলেছিলেন এখনই স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হবে, নইলে জাতি হতাশ হবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জানতেন, কখন কোন পদক্ষেপটি নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ভাবলে দুঃখ হয় যে, ৭ মার্চের ভাষণ আমাদের দেশে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। আমি জানি না যারা এই ভাষণ মুছে ফেলতে চেয়েছিল তারা এখন লজ্জা পায় কিনা। অবশ্য তাদের লাজলজ্জা আছে বলে মনে হয় না। এই দেশে এমন একটা সময় ছিল যখন মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর যে অবদান সেটাও মুছে ফেলা হয়েছিল। এমনভাবে বিকৃত ইতিহাস তৈরি করা হলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মুজিববর্ষ উদযাপনে অনেক কর্মসূচির চিন্তা করছি। জাতির পিতা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ যেন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান পায়। তিনি সংবিধানে মৌলিক চাহিদার কথা উল্লেখ করে গেছেন। তার স্বপ্ন ছিল একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। এ জন্য তিনি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। মুজিববর্ষের মধ্যে দেশের একটি মানুষও ভ‚মিহীন থাকবে না। আওয়ামী লীগের নেতাদের নিজের এলাকায় খোঁজ নেয়ার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যাদের ঘর নেই তাদের আমরা ঘর করে দেবো। আমরা চাই একটি মানুষও যেন গৃহহারা না থাকে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ আমার এই কথাটা দেশের প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। আপনারা চেষ্টা করেন ঘর করে দিতে। না পারলে আমরা টাকা দেবো ঘর করার জন্য।
তিনি বলেন, তখনকার যে অবস্থা, অনেক খবরই আমরা জাতির পিতার পরিবারের সদস্য হিসেবে পেতাম, যা বাইরের মানুষের জানার কথা। ওই সময় পাকিস্তানিরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। তাদের যুদ্ধ বিমান রেডি ছিল, হেলিকপ্টার রেডি ছিল। ৭ মার্চের ভাষণে তিনি কী বলবেন, সে অনুযায়ী অ্যাকশন প্ল্যান রেডি ছিল পাকিস্তানিদের। ব্রিটিশ আমলে যেমন জালিয়ানওয়ালাবাগে নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটিয়ে আন্দোলন স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছিল, ঠিক ওই রকম প্রস্তুতিও ছিল। তাই জাতির পিতাকে কৌশলী হতে হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, একটি জাতি তার সামনে কোনো আশা নেই, ভরসা নেই, স্বপ্ন নেই। সেই জাতিকে বঙ্গবন্ধু আশার বাণী শুনিয়েছেন, স্বপ্ন দেখিয়েছেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আব্দুল মান্নান, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ অনেকেই।
























Recent Comments