এম এইচ রনি : পুঁজিবাজারে গত দেড়যুগে তালিকাভুক্ত হয়েছে ২৭ বীমা কোম্পানি। এ কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসায়িক প্রসার ও আর্থিক অবস্থা উন্নয়নের বিষয় বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকার জন্য ক্যাটাগরি রক্ষার প্রতিযোগিতায় নেমেছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারে সবচেয়ে ভালো কোম্পানিগুলো অবস্থান ‘এ’ ক্যাটাগরিতে। কোন কোম্পানি শুধুমাত্র ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিলেও ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করতে পারবে। তারই পেক্ষিতে এসব বীমা কোম্পানি প্রতিবছরই একই পরিমান ডিভিডেন্ড ঘোষনা করছে। আর একই পরিমান ডিভিডেন্ড ঘোষনা করাটা স্বাভাবিক নয়। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা আরো বলেন, কোন কোম্পানিরই অবস্থা প্রতিবছর এক রকম হতে পারেনা। কোন বছর মুনাফা বাড়বে, আবার কখনো কমবে। কিন্তু এসব কোম্পানির অবস্থা দেখে মনে হয় প্রতি বছর একই অবস্থানে থাকে, যা কমেও না বাড়েও না। এর পিছনে নিশ্চয়ই কোন করণ রয়েছে। নয়লে এসব কোম্পানি প্রতি বছর একই রকম ডিভিডেন্ড কেন দিবে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ২০০৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পযন্ত ১০ শতাংশ করে ডিভিডেন্ড দিয়েছে ৬ বার এবং ১২ শতাংশ দিয়েছে ২ বার। এছাড়া ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পযন্ত কোম্পানিটি শুধু মাত্র ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষনা করেছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে কোম্পানিটি। গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স ২০০৬ ও ২০০৭ সাল ছাড়া এই কোম্পানি ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পযন্ত ১০ শতাংশ করে ডিভিডেন্ড দেয়ে আসছে। প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ইন্সুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স সহ গত এক যুগে তালিকাভুক্ত হওয়া অধিকাংশ কোম্পানিই প্রতি বছর ১০ শতাংশ করে ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছে।
এদিকে বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, কোন কোম্পানির ব্যবায়িক আর্থিক অবস্থার উপর ভিত্তি করেই কোম্পানি বছর শেষে ডিভিডেন্ড ঘোষনা করে। কখনো মুনাফা কমে আবার কখনো মুনাফা বাড়ে। কিন্তু এই বীমা কোম্পানিগুলো কোন পরিবর্তন নেই। তারা একই পরিমান ডিভিডেন্ড প্রতিবছর ঘোষনা করছে।
এ ব্যাপারে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি একেএম মিজান-উর- রশিদ চৌধুরী বলেন, কোন কোম্পানির ব্যবসায়িক অবস্থা হচ্ছে ঠিক পুঁজিবাজারের সূচকের মতো। কখনো উঠে আবার বখনো নামে। অথাৎ কোন বছর মুনাফা বাড়ে আবার কোন বছর কমে। কিন্তু এইসব কোম্পানির অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এদের মুনাফা কখনো বাড়ে না কমেও না। সব সময় একই অবস্থায় থাকে। তিনি আরো বলেন, এসব কোম্পানি
ঘোষিত ডিভিডেন্ড প্রতি বছর একই পরিমান হওয়াটা সন্দেহ জনক। পুঁজিবাজারে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করা কোম্পানিগুলো আথিক অবস্থা মজবুত। হয়তো এ কোম্পানিগুলো ‘এ’ ক্যাটাগরির অবস্থান দেখিয়ে কোনভাবে ফাইদা লুটছে। এসব কোম্পানি যদি অনিয়ম না করত তাহলে একটি কোম্পানির ঘোষিত ডিভিডেন্ড
প্রতিবছর একইরকম হতো না।
( দেড়যুগে ২৭ বীমা কোম্পানি তালিকাভুক্ত, সংগ্রহ ২২৩ কোটি টাকা )
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, গত দেড়যুগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি বীমা কোম্পানি। তালিকাভুক্ত হয়ে এসব বীমা কোম্পানি প্রাথমিক গর্ণপ্রস্তাব আইপিওর মাধ্যমে সর্বমোট ২২৩ কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করেছে।
২০০৫ সাল: প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। একই বছর প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স সংগ্রহ করেছে ৩ কোটি টাকা, সোনার বাংলা ইন্সুরেন্স ৯ কোটি টাকা, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, নিটল ইন্স্যুরেন্স ৯ কোটি টাকা, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ফারইস্ট ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ৯ কোটি টাকা, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স
লিমিটেড ৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।
২০০৬ সাল: প্রাইম ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। নর্দার্ন জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৯ কোটি টাকা।
২০০৭ সাল: কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ৯ কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করেছে। সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৯ কোটি টাকা, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স ৯ কোটি টাকা।
২০০৮ সাল: রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ৯ কোটি টাকা, নর্দার্ন জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কম্পানি লিমিটেড ৯ কোটি টাকা, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ৯ কোটি টাকা, তাকাফুল ইসলামি ইন্স্যুরেন্স ৯
কোটি টাকা।
২০০৯ সাল: ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড পুঁজিবাজার থেকে ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ৯ কোটি টাকা, ইসলামিক ইন্স্যুরেন্স ৯ কোটি টাকা, রুপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ৯ কোটি টাকা।
২০১২ সালে: পদ্মা ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ১২ কোটি টাকা।
২০১৩ সালে: সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।
২০১৬ সালে: বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য: সম্প্রতি এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। বর্তমানে কোম্পানিটির আইপিও সাবস্ক্রিপশন চলছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম এইচ


































Recent Comments