মঙ্গলবার, ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিখেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ এক্সিট পলিসি
spot_img
spot_img

খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ এক্সিট পলিসি

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশের ব্যাংক খাতে রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ ‘এক্সিট পলিসি’ জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ নীতিমালার আওতায় আর্থিক সংকটে থাকা, তবে ব্যবসা পরিচালনায় সক্ষম খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এককালীন অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ঋণ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এর বিনিময়ে ঋণের ওপর আরোপিত ও অনারোপিত সুদের উল্লেখযোগ্য অংশ মওকুফ করা হবে।

সোমবার (২৯ জুন) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তি তারিখে ‘মন্দ’ ও ‘ক্ষতিজনক’ শ্রেণিতে থাকা খেলাপি ঋণগুলো এ বিশেষ সুবিধার আওতায় আসবে। তবে এ সুবিধা দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্ক বিবেচনায় নিতে হবে।

নীতিমালার প্রধান শর্ত হলো, ঋণগ্রহীতাকে এককালীন পুরো দায় পরিশোধ করতে হবে। এর বিপরীতে ঋণের ওপর আরোপিত ও অনারোপিত সুদের উল্লেখযোগ্য অংশ মওকুফের সুযোগ থাকবে। এ জন্য আগের কিছু কঠোর শর্তও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ছাড়া ৬ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ সময়ের মধ্যে পুনঃতফসিল করা ঋণও এ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে কৃষি খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ এবং সিএমএসএমই খাতের কুটির, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণের ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে খেলাপি ঋণ কমানো অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ঋণ দ্রুত আদায়, সক্ষম ঋণগ্রহীতাদের নতুন করে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়ানোর লক্ষ্যেই বিশেষ এ এক্সিট পলিসি চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এর মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকৃত আর্থিক সংকটে থাকা ঋণগ্রহীতাদের জন্য এ উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে নৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।

সার্কুলার অনুযায়ী, বিশেষ এ এক্সিট সুবিধা আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য সুবিধাভোগী ঋণগ্রহীতাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। দেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের রেকর্ড। এ প্রেক্ষাপটে বিশেষ এক্সিট পলিসিকে খেলাপি ঋণ কমানোর নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments