রবিবার, ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআন্তজার্তিকগাজায় হত্যার শিকার ১৬ হাজার নারী-শিশু
spot_img
spot_img

গাজায় হত্যার শিকার ১৬ হাজার নারী-শিশু

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলের নৃশংসতার মূল ভুক্তভোগী নারী ও শিশুরা। গত অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ বা ১৬ হাজারের বেশি শিশু ও নারী। প্রতি ঘণ্টায় গাজায় দু’জন মা নিহত হচ্ছেন।

ইতোমধ্যে যুদ্ধের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ে অতুলনীয় ধ্বংসযজ্ঞ গাজার মানুষের জীবনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সেখানে কোনো নিরাপদ স্থান নেই; স্বস্তি নেই। হতাহতের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতদের সিংহভাগই নারী ও শিশু। যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১০ হাজার শিশু পিতৃহীন হয়েছে। কমপক্ষে ৩ হাজার নারী বিধবা হয়েছেন।

নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা ইউএন উইম্যানের বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৫ বছরে অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিহতদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ ছিল পুরুষ। সেখানে নারী ও শিশু নিহত হওয়ার হার ১৪ শতাংশের নিচে ছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় যারা নিহত হচ্ছেন, তারা কোনো সংখ্যা নয়, তারা মানুষ। জাতিসংঘ তাদের রক্ষা করতে পারছে না। এ ব্যর্থতার জেরে শত দিন ধরে গাজার মানুষ যে ট্রমার মধ্যে রয়েছেন, তা আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাড়া করবে।

গাজায় নারী ও শিশুদের ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয়বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা তীব্র অনাহার ও দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করছেন। তাদের অধিকাংশই আশা ও ন্যায়বিচার বঞ্চিত। এ অবস্থায় গাজায় যুদ্ধবিরতির জোর দাবি জানায় জাতিসংঘের সংস্থাটি।

সিএনএনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, গাজায় স্থল অভিযান পরিচালনাকালে ইসরায়েলের সেনারা কবরস্থানগুলোকে ধ্বংস করছে। স্যাটেলাইট ছবি ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কমপক্ষে ১৬টি কবরস্থান ধ্বংস করা হয়েছে। কবরগুলোর নষ্ট করে, মাটি খুঁড়ে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মরদেহ ওপরে ফেলে রেখেই তারা চলে যাচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মার্কিন সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, ধর্মীয় স্থাপনা বা সমাধিক্ষেত্র ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এটা যুদ্ধাপরাধ হতে পারে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা ইউএনওসিএইচএর উদ্ধৃতি দিয়ে আলজাজিরা জানায়, গাজায় ত্রাণ সরবরাহে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। বিশেষ করে উত্তর গাজায় ত্রাণ পৌঁছাতে দিচ্ছে না; ৭০ শতাংশ ত্রাণবাহী গাড়ি আটকে দিচ্ছে। চলতি জানুয়ারির প্রথমার্ধে উত্তর গাজায় ২৯টি ত্রাণ মিশন বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল জাতিসংঘ। ইসরায়েল অনুমোদন দিয়েছে মাত্র সাতটির।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিতে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত চেয়েছে চিলি ও মেক্সিকো। এর জবাবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা জন কিরবি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধাপরাধ’ সংগঠনের কোনো প্রমাণ নেই। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এখনও গাজায় যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করছে। শুক্রবার জন কিরবি বলেন, তারা মানবিক বিরতিকে সমর্থন করেন, যাতে জিম্মিদের বের করে আনা যায় এবং ত্রাণ পৌঁছানো যায়। তারা এ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি চান না।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ওয়াশিংটন যা দেখতে পাচ্ছে এবং ইসরায়েলের শীর্ষ কমান্ডাররা যা বলছেন, তাতে মনে হচ্ছে, হামাসের বিরুদ্ধে জয় থেকে ইসরায়েল এখনও অনেক দূরে। এ অবস্থায় মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৬০ ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের কাছে পত্র লিখে গাজায় ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি’র নিন্দা জানাতে বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, পশ্চিম তীরে গুলিতে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত তাদের এক মার্কিনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার তাওফিক হাফিজ আজ্জাক নামের ওই তরুণ গুলিবিদ্ধ হন।

চলমান প্রেক্ষাপটে সিজারিয়া শহরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। হারেৎজ অনলাইন জানায়, শুক্রবার রাতে জিম্মিদের মুক্তির দাবি ইসরায়েলের বাসিন্দারা এ বিক্ষোভ করেন।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments