ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যেসব এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে, সেসব পরীক্ষা পরবর্তীতে আলাদা প্রশ্নপত্রের সেটে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন।
শনিবার (১১ জুলাই) গণ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ‘অ্যাক্ট অব গড’-এর ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। যেসব এলাকায় শিক্ষার্থীরা বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব স্থানে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের কাছে বিকল্প প্রশ্নপত্রের বেশ কয়েকটি সেট প্রস্তুত রয়েছে। সারা দেশে মূল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা পরীক্ষা নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হবে না।”
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে। একসময় বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আসলেও বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিদেশমুখী হচ্ছে। এ প্রবণতা কমাতে শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। স্বাধীন ও অলাভজনক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়িয়ে একটি উন্নত ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এটি কোনো পদ্ধতিগত ত্রুটি নয়, বরং দায়িত্বহীনতার ঘটনা। একজন অপারেটর ব্যক্তিগত কৃতিত্ব দেখাতে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগে ফল প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলাভঙ্গ কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এহসানুল হক মিলন জানান, শিক্ষা সবার সাংবিধানিক অধিকার। সমতার ভিত্তিতে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। আগামী রোববার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এবার প্রথমবারের মতো বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। বেসরকারি স্কুলের জন্য ২০ শতাংশ এবং সরকারি স্কুলের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে।
নতুন কারিকুলাম প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাকে আরও আনন্দময় করতে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা’ বিষয়টি যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, নৈতিকতা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।Geographic Reference
তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকে দেশের ইতিহাস নিরপেক্ষ ও বাস্তবভিত্তিকভাবে তুলে ধরার কাজ চলছে। তবে শিক্ষা কারিকুলাম একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া হওয়ায় তা রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে পাঠ্যবইয়ের বড় অংশ পরিমার্জন করা হয়েছে এবং শিক্ষকদের মানোন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ






























Recent Comments