ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: অনিরাপদ খাদ্যের ছয়লাবে দেশে স্ট্রোকের রোগী আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর উত্তরার একটি হোটেলে হাই-কেয়ার জেনারেল অ্যান্ড স্পেশালাইজড হাসপাতাল আয়োজিত স্ট্রোক সচেতনতা বিষয়ক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। তারা বলছেন, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জোর দিতে হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এতে প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহনওয়াজ দিলরুবা খান।
প্রধান আলোচক অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্রমেই স্ট্রোকের রোগী কমছে। সেখানে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে অনিরাপদ খাদ্যের কারণে স্ট্রোকের রোগী ভয়াবহ আকার রূপ নিচ্ছে। এটি আমাদের জন্য বড় বোঝা। ২০৫০ সালের মধ্যে আরও খারাপ অবস্থায় পৌঁছাবে।
ঢাকা মেডিকেলের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোতাশিমুল হাসান (শিপলু) বলেন, বিশ্বে মোট মৃত্যুর দ্বিতীয় কারণ স্ট্রোক। বিশ্বব্যাপী দেড় কোটি মানুষ প্রতিবছর স্ট্রোকের নানা জটিলতার শিকার হন। এর মধ্যে মারা যায় ৫০ লাখ। এ ছাড়া পঙ্গুত্ব বয়ে বেড়ায় আরও ৫ লাখ মানুষ। রক্ত চলাচল ঠিকমতো না হলে স্ট্রোক হয়। ব্রেন ঠিকমতো রক্ত না পাওয়ায় ব্রেন স্ট্রোক হয়। তবে ব্লাড প্রেশার ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ৮০ ভাগ স্ট্রোক কমে যায়।
হাই-কেয়ার জেনারেল অ্যান্ড স্পেশালাইজড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এন এ খান (ইমরান) বলেন, প্রতি ৪০ সেকেন্ড বিশ্বে একজন মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা এখন দেশে মিলছে। তবে এ রোগে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। মরণ এ ব্যাধি সম্পর্কে আগের চেয়ে সচেতনতা কিছুটা বাড়লেও এখনো পিছিয়ে।
প্রধান অতিথি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহনওয়াজ দিলরুবা খান বলেন, স্ট্রোক থেকে বাঁচতে হলে ডায়াবেটিসে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। অধিকাংশ মানুষই আমরা সবকিছুর জন্য নিজেদের আয়ের একটি অংশ রাখলেও নেই চিকিৎসার জন্য। ফলে হঠাৎ করে জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments