মঙ্গলবার, ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeস্বাস্থ্য বার্তাধীরগতিতে ও চিবিয়ে খাবার গ্রহণের যত উপকারিতা
spot_img
spot_img

ধীরগতিতে ও চিবিয়ে খাবার গ্রহণের যত উপকারিতা

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানেই কেবল ক্যালরি মেপে খাবার খাওয়া নয়, বরং এর চেয়েও বেশি কিছু। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় গবেষকরা জানিয়েছেন, খাবারের সময়, খাওয়ার গতি এবং কতটুকু সময় নিয়ে চিবিয়ে খাওয়া হচ্ছে—এসব বিষয় হজমপ্রক্রিয়া, মেটাবলিজম এবং সুস্থ ওজন বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, ওজন নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নির্ভর করে দেহে কী পরিমাণ ক্যালরি প্রবেশ করছে এবং কী পরিমাণ ক্যালরি বার্ন বা খরচ হচ্ছে তার ভারসাম্যের ওপর। তবে নতুন এই গবেষণার ফলাফল প্রচলিত সেই বিশ্বাসকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের পুরো চিত্রটি শুধু এই ‘ক্যালরি গ্রহণ এবং ক্যালরি খরচ’-এর প্রথাগত হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। ক্যালরি গ্রহণের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে খাওয়ার অভ্যাস—বিশেষ করে খাবারের সময় ও খাওয়ার গতি—শরীর কতটুকু দক্ষতার সাথে শক্তি ব্যবহার করবে তা গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ধীরগতিতে খাবার খান এবং প্রতি কামড় ভালোভাবে চিবিয়ে নেন, তাদের হজমপ্রক্রিয়া অনেক উন্নত হয়। এর ফলে অল্প খাবারেই দ্রুত পেট ভরার অনুভূতি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাসটি অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয় এবং শরীরের প্রাকৃতিক তৃপ্তির সংকেতগুলোকে মস্তিষ্কে পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে দারুণভাবে সাহায্য করে।

খাবারের সময়ের ওপরও বিপাকক্রিয়া অনেকাংশে নির্ভরশীল। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে দিনের ঠিক কোন সময়ে মানুষ খাবার খাচ্ছে, তা শরীরের পুষ্টি উপাদান প্রক্রিয়াজাতকরণের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তা শরীরের শক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

পরিশেষে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ার জন্য শুধুমাত্র পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়াই যথেষ্ট নয়। একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুলতে স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচনের পাশাপাশি খাওয়ার অভ্যাস, খাবারের সময়সূচি, শারীরিক পরিশ্রম এবং সার্বিক জীবনযাত্রার ধরনের দিকেও সমানভাবে নজর দেওয়া জরুরি।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments