শনিবার, ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআন্তজার্তিকবন্যা মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ সহায়তা চায় নেপাল, পুনর্গঠনে লাগবে ৫ বিলিয়ন ডলার
spot_img
spot_img

বন্যা মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ সহায়তা চায় নেপাল, পুনর্গঠনে লাগবে ৫ বিলিয়ন ডলার

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: প্রবল বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল উদ্ধারকাজে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে শনিবার দেশটির একটি দুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন নেপালের অর্থমন্ত্রী।

বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ ঢলে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। পাহাড়ি নদীপথ দিয়ে পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেমে আসে। এতে নেপালে অন্তত ৬২৬ জন এবং চীনের তিব্বতে সাতজন নিহত হয়েছেন। খবর রয়টার্সের

এখনো প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে নেপালে প্রায় ২ হাজার ৪২৬ জন এবং তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই ভারতের হিন্দু তীর্থযাত্রী।

দুর্গত রাসুয়া জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে শনিবার অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন উদ্ধার হওয়া তীর্থযাত্রীদের স্থলপথে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে নেপালের এখন বাইরের সহায়তা প্রয়োজন নেই। তবে কিছু বিশেষায়িত কাজে দেশটির দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন, ধ্বংস হওয়া সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষ উদ্ধার, নিখোঁজ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত, ডিএনএ পরীক্ষা এবং মরদেহ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের মতো কাজে বিদেশি কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন। এ জন্য বিভিন্ন দেশের কাছে বিশেষায়িত সেবা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বন্যার পর নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার হ্রদটির পানি উপচে নেপালের লেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদীতে প্রবেশ করায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

দুর্গত এলাকার উজানে থাকা দুটি হ্রদের ওপর নজর রাখছে নেপাল। এসব হ্রদের পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি থাকবে বলে সতর্ক করেছেন একজন কর্মকর্তা।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, একটি হ্রদের পানির স্তর কমছে। তবে চীনের এক ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, হ্রদটি এখনো অস্থিতিশীল হতে পারে। ওই এলাকায় ছড়িয়ে থাকা আরও শতাধিক হিমবাহ-হ্রদও নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বন্যাকবলিত নেপালে এরই মধ্যে তিনটি বিমানে প্রায় ৬০ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত। এসব ত্রাণের মধ্যে কম্বল, ওষুধ, খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রয়েছে।

এ ছাড়া সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষ উদ্ধারে একটি বিশেষ দল এবং একটি চিকিৎসক দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে ভারত। যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, অস্থায়ী সেতু ও কারিগরি দল পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটি।

চীনও নেপালের দুর্গত এলাকায় জরুরি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। তবে তারা কী ধরনের সহায়তা পাঠাচ্ছে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।

নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাবে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে দেশটি পুনর্গঠনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এটি প্রাথমিক হিসাব। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো চলছে।

এদিকে চীনের তিব্বতেও নিখোঁজ শতাধিক মানুষকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। শুক্রবার উদ্ধারকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গিরং সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান। দুর্গম পাহাড়ি পথ, উপত্যকা, বন ও খাড়া পাহাড় পার হয়ে দড়ি ব্যবহার করে তাঁদের সেখানে যেতে হয়েছে। বন্যায় ওই এলাকার সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সীমান্ত এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বন্যার সময় পানি ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত ভবনগুলো গ্রাস করছে। প্রাণ বাঁচাতে তখন লোকজন বিভিন্ন দিকে ছুটে পালানোর চেষ্টা করেন।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments