ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: রফতানি বাণিজ্যসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সব বিধিবিধান একত্র করে নতুন সমন্বিত নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে পণ্য ও সেবা রফতানি, রফতানি আয় দেশে আনা, ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক নথি প্রক্রিয়াকরণ, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সারদের আয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা এক জায়গায় আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনা জারির মাধ্যমে রফতানি বাণিজ্যসংক্রান্ত আগের নির্দেশনাগুলো রহিত হবে। তবে গাইডলাইনস ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশনসের (জিএফইটি) দ্বিতীয় খণ্ডে থাকা প্রতিবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা বহাল থাকবে। নতুন নীতিমালা সার্কুলার জারির তারিখ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সমন্বিত নীতিমালায় প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ও বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক এক্সপোর্ট ডিক্লারেশন (ই-এক্সপি) ফরম ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কাস্টমসের ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে রফতানি-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় ও প্রক্রিয়াকরণ সহজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় রফতানি আয় দেশে আনার নির্ধারিত সময়সীমা চার মাস বহাল রাখা হয়েছে। তবে কাঁচা পাট ও পাটপণ্য রফতানির ক্ষেত্রে অপরিবর্তনীয় নিশ্চিত এলসি অথবা ওপেন অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৬০ দিন পর্যন্ত আয় দেশে আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রফতানি আয় দেশে না এলে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
ওপেন অ্যাকাউন্ট ক্রেডিট ব্যবস্থায় রফতানির ক্ষেত্রে বিদেশি ফ্যাক্টরিং প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ট্রেড ফাইন্যান্সার বা বীমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা কিংবা ঝুঁকি সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া রফতানিকারকদের জন্য আগাম অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ ব্যবস্থায় অর্থায়ন ব্যয় বেঞ্চমার্ক সুদহারের ওপর সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত সীমিত থাকবে।
নতুন নীতিমালায় ডকুমেন্টারি কালেকশনের আওতায় নিরাপদ ইলেকট্রনিক মাধ্যমে রফতানি নথি উপস্থাপন ও প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে এ ব্যবস্থা চালু করতে পারবে।
সমন্বিত সার্কুলারে ই-কমার্সের মাধ্যমে পণ্য রফতানি, সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা রফতানি, ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে রফতানি আয় দেশে আনার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সার্কুলারে ছড়িয়ে থাকা রফতানি বাণিজ্যসংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো এক জায়গায় আসবে। এতে ব্যাংক ও রফতানিকারকদের জন্য বিধিবিধান অনুসরণ সহজ হওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল বাণিজ্য ও বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments