ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: গতকাল বুধবার বকেয়া পারিশ্রমিকের দাবিতে বিসিবিতে চিঠি দেওয়ার কথা ছিল ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটারদের। কিন্তু চিঠি দেওয়ার আগে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির পক্ষ থেকে সমাধানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাতে শেষ মুহূর্তে বিসিবিতে কয়েকজন ক্রিকেটার হাজির হলেও চিঠি দেননি তারা। তাদের মধ্য থেকে এক ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্লাবের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য ১৫-১৭ আগস্ট পর্যন্ত সময় নেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ক্রিকেটাররা পারিশ্রমিক না পেলে বিসিবিতে চিঠি দিবেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রাদার্স ইউনিয়নের ঐ ক্রিকেটার বলেছেন, ‘বেশির ভাগ ক্রিকেটারের পরিবার চলে এই টাকায়। কিন্তু সেটি নিয়ে টালবাহানা করলে আমাদের চলা দায় হয়ে যায়। অনেক ক্রিকেটার ঠিকমতো বাড়ি ভাড়া পর্যন্ত দিতে পারেন না। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যেমন সুযোগ-সুবিধা পান, তার উলটো অবস্থানে রয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটাররা। সবশেষ আসরে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে কম পারিশ্রমিক নিয়েই আমাদের খেলতে হয়েছে। কিন্তু সেই টাকাই যদি না পাই, তাহলে আমরা চলব কীভাবে?
ডিপিএলের সবশেষ আসরে রেলিগেশন লিগ খেলে টিকে রয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। আগামী আসরে মূলপর্বে খেলতে পারবে দলটি। কিন্তু তার আগে পারিশ্রমিক জটিলতায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে ব্রাদার্স। কেবল এই ক্লাব নয়, আরও ক্লাব রয়েছে এই তালিকায়। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক জটিলতা বাংলাদেশের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বিপিএলেও এটি দেখা যায়।
ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন কোয়াব অবশ্য নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়েছে। গেল ৪ আগস্ট বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির প্রধান সেলিম শাহেদ বলেছিলেন, কোনো ক্রিকেটারের চুক্তিপত্র থাকলে তার পারিশ্রমিক জটিলতার সমাধান করবে কোয়াব। কারো চুক্তিপত্র না থাকলে কোয়াবের তেমন কিছু করার নেই বলেও মন্তব্য করেছিলেন সেলিম।
এই বিষয়ে আক্ষেপ নিয়ে ব্রাদার্স ক্লাবের ক্রিকেটার বলেছেন, ‘বেশির ভাগ ক্রিকেটারের চুক্তিপত্র থাকে না। এটি কোয়াবের অজানা নয়। চুক্তিপত্রের জন্য বসে থেকে অনেকে দল পায় না, খেলতে পারে না। না খেললে তার উপার্জন আসবে কীভাবে? কেউ তো এটি দেখে না। সেজন্য চুক্তিপত্রের বাইরে গিয়েই খেলতে হয় ক্রিকেটারদের। আর যদি কারো চুক্তিপত্র থাকে, তখন তো কোয়াবের প্রয়োজন নেই। তখন ঐ ক্রিকেটার নিজেই তার পারিশ্রমিক জটিলতার সমাধান করতে পারেন।’
ব্রাদার্স থেকে টাকা পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘কাউকে ৫০ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে ৮০-৯০ শতাংশ টাকা পাবেন। বিকাশের মাধ্যমে কিংবা নগদে অল্প কয়েক হাজার টাকা পেয়েছেন অনেকে। এটি দিয়ে কী হয়? সামনে এনসিএলের ক্যাম্প শুরু হচ্ছে। আমরা চাই তার আগে এই পারিশ্রমিক জটিলতার সমাধান হোক।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/আ
































Recent Comments