ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ২০০৯ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন ‘ব্রিক’ নামে একটি জোট গঠন করে। পরের বছর দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দিলে এ জোটের নতুন নাম হয় ‘ব্রিকস’। শুরুর দিকে অবশ্য জোটটি নিয়ে কেউ মাথা ঘামায়নি। এটির সফলতা নিয়েও সন্দেহ ছিল। তবে পশ্চিমা উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর বাইরে ব্রিকস বর্তমানে একটি শক্তিশালী জোটে পরিণত হয়েছে। দেশগুলো তাদের প্রভাব ও উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে জানান দিতে পেরেছে। এ জন্য পুরো বিশ্বের নজর এখন গতকাল মঙ্গলবার জোহানেসবার্গে শুরু হওয়া জোটের ১৫তম শীর্ষ সম্মেলনের দিকে।

২২ থেকে ২৪ আগস্টের এ সম্মেলনে রাশিয়া ছাড়া বাকি দেশগুলোর নেতারা জড়ো হয়েছেন। ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকায় তিনি অংশ নিচ্ছেন না। তবে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেবেন। দক্ষিণ আফ্রিকা আইসিসির সদস্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পুতিন সফরে গেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হতো দেশটি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উদ্বেগজনক পর্যায়ে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের পটভূমি হিসেবে কাজ করেছে। বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার একটি শক্তি হিসেবে গ্রুপিংয়ের ক্রমবর্ধমান অবস্থানকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। জোট সম্প্রসারণের বিষয়টিও এজেন্ডাকে আরও উচ্চতর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তা ছাড়া এটি এখন ব্যাপক আকর্ষণীয় একটি জোটে পরিণত হয়েছে। আলজেরিয়া থেকে আর্জেন্টিনা পর্যন্ত অন্তত ৪০টি দেশ এই গ্রুপে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
জোটটির আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলো এর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ব্যাপ্তি। ব্রিকসের দেশগুলো এখন ক্রয়ক্ষমতার দিক থেকে উন্নত অর্থনৈতিক জোট জি ৭-এর সম্মিলিত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) চেয়ে বেশি। দেশগুলো বৈশ্বিক জিডিপির ২৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। যদিও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) তাদের ভোট ক্ষমতা মাত্র ১৫ শতাংশ।
এ ধরনের ভারসাম্যহীনতার অভিযোগের সঙ্গে বিশ্বের দক্ষিণ অংশে উদ্বেগ বাড়ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ডলারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। এতে ব্রিকস দেশগুলো তাদের নিজস্ব মুদ্রায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি মার্কিন মুদ্রার ওপর তাদের নির্ভরতা কমাতে পৃথক ও সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করছে। জোটের দুই সদস্য চীন ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে অচলাবস্থা সত্ত্বেও তারা অভিন্ন স্বার্থে এক টেবিলে বসতে দ্বিধা করেনি। আবার জোটের সঙ্গে কাজের পাশাপাশি ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল পশ্চিমের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্কও বজায় রাখতে চায়।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন হলো– ব্রিকস কি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিকল্প অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্তম্ভ হিসেবে আবির্ভূত হবে? অথবা অভ্যন্তরীণ পার্থক্য কি গ্রুপটির সক্ষমতা সীমিত করতে পারে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রিকস জোটের প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তবে এটি নাটকীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার প্রতিস্থাপন করতে পারবে বলে মনে হয় না। বরং বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থায় টুকরো টুকরো অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিকল্প তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তা ছাড়া এটি পশ্চিমের সঙ্গে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.


































Recent Comments