মঙ্গলবার, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeস্বাস্থ্য বার্তামৃত্যুর ৮০ শতাংশই এক মাসে আক্রান্তের হার তিন গুণ
spot_img
spot_img

মৃত্যুর ৮০ শতাংশই এক মাসে আক্রান্তের হার তিন গুণ

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: মশার কামড় থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষায় অনেকটাই ব্যর্থ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। যে কারণে বন্দরনগরীতে প্রতিনিয়ত ভয়ংকর হয়ে উঠছে ডেঙ্গু। এর খেসারত দিচ্ছেন নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। চলতি বছরের মোট মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশই গত মাসে। একই সময়ে আক্রান্তের হারও বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। আগামীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি মাসের মাত্র ছয় দিনেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে রেকর্ড ৯৬ জন। এত কম সময়ে এত মৃত্যু ও আক্রান্তের ঘটনা চলতি বছরের আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এতে নগরবাসীর মাঝে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

গত বছর চট্টগ্রাম নগরীতে লার্ভার ঘনত্ব ছিল মাত্র ৩৬ শতাংশ। চলতি বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ২৯ শতাংশে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার (২০ শতাংশ) চেয়ে চার গুণের বেশি। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) চিহ্নিত করা মশার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়ও মশা মারতে নেই তোড়জোড়। উদ্বেগের বিষয় জানিয়ে আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।

সর্বশেষ গত ৪ আগস্ট এক দিনেই মৃত্যু হয়েছে চিকিৎসকসহ দুজনের। তারা হলেন চিকিৎসক তাহসিন আজমী (২৮) ও দুখি চাকমা (৪৯)। তাহসিন আজমী চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের ও দুখি রাঙামাটির বাসিন্দা ছিলেন। তাহসিন ইপিজেড এলাকার ইয়ংওয়ান লিমিটেডে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্বামী তৌহিদুল ইসলাম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাদের একমাত্র মেয়ে সুহাইরার বয়স মাত্র আড়াই বছর। তৌহিদুল বলেন, ‘একমাত্র মেয়ের জন্য খুব করে বাঁচতে চেয়েছিল আজমী। কিন্তু ডেঙ্গু তাকে নিয়ে গেল। আমার ছোট্ট মেয়েটি মা-হারা হলো।’

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আট মাসের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জুলাইয়ে জুন মাসের তুলনায় শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। জুন মাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৭৬ জন। অথচ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে জুলাইয়ে আক্রান্তের সেই সংখ্যা রেকর্ড ৪৩০, যা আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আট মাসের মধ্যে জুলাইয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশ। গত ছয় মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মাত্র দুজনের মৃত্যু হলেও জুলাইয়ে মৃত্যু হয়েছে রেকর্ড সাতজনের।

এবারের জুলাইয়ে আক্রান্তের হার গত বছরের জুলাইয়ের চেয়েও আড়াই গুণ বেশি। সেবার আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৯৮ জন। চলতি মাসের প্রথম দুই দিনেই ৩০ জনের শরীরে মিলেছে ডেঙ্গুর অস্তিত্ব। এর আগের মাসগুলোতে আক্রান্তের হার ছিল কম। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৭০, ফেব্রুয়ারিতে ২৮, মার্চে ২২, এপ্রিলে ৩৩ এবং মে মাসে ছিল ১১৬ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৯৭১, মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এতে আমরাও উদ্বিগ্ন। মশার অত্যাচার বহু গুণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে আইইডিসিআর পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে। মশা মারার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তাদের এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বারবার তাগাদা দিচ্ছি আমরা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে চসিক ব্যর্থ। তাদের ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ স্লোগান শুধু বিলবোর্ডেই সীমাবদ্ধ; বাস্তবে এর প্রতিফলন নেই। চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ ভয়াবহ হলেও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে কার্যকর কোনো অগ্রগতি নেই। আইইডিসিআর পরিচালিত এক গবেষণায় সর্বোচ্চ মশার অস্তিত্ব মিলেছে আগ্রাবাদে– ১৩৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ ছাড়া পাহাড়তলীতে ১১০ শতাংশ, হালিশহরে ৬৬ দশমিক ৬৭, চট্টেশ্বরী এলাকায় ৪৮ দশমিক ৩৯, ওআর নিজাম এলাকায় ৪২ দশমিক ৮৬ এবং ঝাউতলা এলাকায় ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এসব মান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ঝুঁকিপূর্ণ সীমার চেয়ে অনেক বেশি বলে মনে করছেন গবেষণাসংশ্লিষ্টরা।

সিটি করপোরেশনের ছয়টি ওয়ার্ড, আটটি হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গত ১২ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত গবেষণাকাজ পরিচালিত হয়, যা চলতি বছর প্রথম কোনো গবেষণা কার্যক্রম।

আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী কানিজ রহমান বলেন, পাশের ভবনে পরিচিত দুজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। আমার বাসায় আছে তিন শিশুসহ বয়স্ক লোকজন। এতে নিজেরা কখন আক্রান্ত হই, সে দুশ্চিন্তায় আছি। গত দুই মাসে করপোরেশনের কাউকে মশার ওষুধ ছিটাতে দেখিনি।

চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সমকালকে বলেন, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ১০০ দিনের বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম চলমান। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়ও আমাদের বিশেষ নজরদারি রয়েছে।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments