ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ব্যস্ত কর্মজীবন, দীর্ঘ যানজট কিংবা নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে অনেকেই রাতে খাবার না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। আবার কেউ কেউ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের পর আর কিছু খান না। অনেকের বিশ্বাস, রাতের খাবার বাদ দিলে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, এক-দুদিন কোনো কারণে রাতের খাবার না খেলেও সাধারণত বড় ধরনের ক্ষতি হয় না। কিন্তু এটি যদি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘুমের সময়ই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শরীর খাবার ছাড়া থাকে। তাই ঘুমের আগে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার সামাজিক ও মানসিক গুরুত্বও রয়েছে। ২০২১ সালে আমেরিকান কলেজ অব পেডিয়াট্রিশিয়ানসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস শিশুদের পুষ্টি, শিক্ষাগত সাফল্য এবং সুস্থ ওজন বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
রাতের খাবার বাদ দিলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও প্রভাবিত হতে পারে। অনেকেই দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রাতে বেশি পরিমাণে সবজি খান। অথচ সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মানুষই প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফল ও সবজি খেতে পারেন না। ফলে রাতের খাবার বাদ দিলে এসব পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগও কমে যায়।
শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে?
খাবারের সময়সূচিতে পরিবর্তন এলেই শরীরে নানা জৈবিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। ২০২১ সালে কারেন্ট ওপিনিয়ন ইন বায়োটেকনোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনা গবেষণায় বলা হয়েছে, অনিয়মিত সময়ে খাওয়া শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। এর ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াও বিঘ্নিত হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত খাবার বাদ দেওয়া আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ২০২৩ সালে জার্নাল অব দ্য অ্যাকাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দিনে মাত্র একবার খাবার খাওয়ার সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নিয়মিত দুপুর বা রাতের খাবার বাদ দেওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বল্প সময়ের জন্য রাতের খাবার না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। এতে দুর্বল লাগা, হাত কাঁপা কিংবা শক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে বা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে একদিন রাতের খাবার না খেলেও সাধারণত গুরুতর সমস্যা দেখা যায় না।
অন্যদিকে, ২০২২ সালে সেল মেটাবলিজম সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর রাতে খাবার খাওয়া ক্ষুধা বাড়াতে পারে এবং লেপটিন হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। এই হরমোন শরীরকে তৃপ্তির সংকেত দেয়। ফলে রাত করে খাওয়ার অভ্যাস স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া ইনোভেশন ইন এজিং সাময়িকীতে ২০২০ সালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত খাবার বাদ দেন, বিশেষ করে বয়স্করা, তাদের মধ্যে বিষন্নতা, উদ্বেগ এবং অনিদ্রার সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
সমাধান কী
মাঝে মধ্যে কোনো কারণে রাতের খাবার বাদ পড়লে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এটি যেন নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আর যদি ওজন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য থাকে, তাহলে রাতের খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম






























Recent Comments