ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নতুন ক্ষমতা পেল তার প্রশাসন।
এতে ভারত ও চীনের ওপরও শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানায় ইন্ডিয়া টুডে।
আইনটিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের সবচেয়ে বেশি আমদানিকারক পাঁচ দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে হবে ট্রাম্পকে। আইন কার্যকর হওয়ার পর জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস নতুন করে কেনা দেশগুলোর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা শীর্ষ পাঁচ দেশের ক্ষেত্রেও এই আইন কার্যকর হবে।
রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে। তবে আইনে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকা কীভাবে তৈরি হবে, সেটিও স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ফলে কোন কোন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে, তা নির্ধারণে ট্রাম্প প্রশাসনকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ভারতীয় পণ্যের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের পথ তৈরি হতে পারে। তবে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ভোক্তা পণ্যের দাম ও জ্বালানি খরচ বেড়ে যেতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্প হয়তো অনিচ্ছুক থাকবেন। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে। বুধবার কংগ্রেসে পাস হওয়া এই বিল রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতকে লক্ষ্য করেছে।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কোকে সহায়তা করার অভিযোগ থাকা তেলবাহী জাহাজের বহরকেও এর আওতায় আনা হয়েছে। এসব জাহাজকে রাশিয়ার ‘ছায়া বহর’ বলা হয়। এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ক্ষমতাও ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে।
এক বছরের বেশি সময় ধরে বিলটি নিয়ে বিলম্বের পর গত জুলাইয়ে ট্রাম্প এটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন। কংগ্রেসের কয়েকজন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের পরিকল্পিত বৈঠকের আগে তার কাছে আর চাপ তৈরির ক্ষমতা দিতে মার্কিন কর্মকর্তারা বিলটি পাসের জন্য চাপ দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের আইনবিষয়ক পরিচালক জেমস ব্রেইড বলেন, প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কংগ্রেস নির্বাহী বিভাগের হাতে নতুন করে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিল। কোন কোন দেশের ওপর শেষ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে, তা স্পষ্ট না হওয়ায় আইনটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments