শুক্রবার, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিলিফট রপ্তানির পরিকল্পনা প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের
spot_img
spot_img

লিফট রপ্তানির পরিকল্পনা প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আগামী বছরের মধ্যে লিফট রপ্তানির পরিকল্পনা করছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান প্রপার্টি লিফটস। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অন্যান্য ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এই লক্ষ্যে প্রপার্টি লিফটস এ খাতে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। গতকাল শনিবার নরসিংদীর ডাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রপার্টি লিফটসের কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এন পাল।

ডাঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর কোলঘেঁষে গড়ে উঠেছে প্রপার্টি লিফটসের বিশালাকারের কারখানা। কেউ বানাচ্ছেন দরজা, কেউ সংযোজন করছেন যন্ত্রাংশ। এভাবে কারখানার ভেতরে কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ জানিয়েছে, আমদানিনির্ভর লিফটের বাজারকে দেশীয় উৎপাদনের পথে নিয়ে আসতে প্রপার্টি লিফটস এ খাতে বড় বিনিয়োগ করেছে। যেখানে বিশ্বমানের লিফট তৈরি হচ্ছে। ১৯৮৮ সাল থেকে লিফট আমদানি করে ব্যবসা শুরু করলেও প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে নিজস্ব কারখানায় সীমিত আকারে উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে তারা লিফটে ব্যবহৃত ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ যন্ত্রাংশ তৈরি করছে। কারখানাটি মাসে ২৬০ ইউনিট লিফট তৈরি করতে সক্ষম। তবে এখন প্রায় ১২০টি লিফট উৎপাদন করা হচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যে পুরোপুরি সক্ষমতায় চলে যাবে।

আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এন পাল বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান লিফটের চাহিদা বাড়ছে। আমদানি করা লিফটের দাম যেমন বেশি, তেমনি পুরোনো ভবনে কাস্টমাইজড লিফট বসানোর সুযোগও সীমিত ছিল। এই বাস্তবতায় তারা লিফট উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করেছেন। প্রতিবছর এ খাতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

প্রপার্টি লিফটসের চিফ অপারেটিং অফিসার মঈনুল ইসলাম বলেন, উৎপাদনের পাশাপাশি প্রপার্টি লিফটস বিশ্বসেরা লিফট ব্র্যান্ড কোনে, ম্যাকপুয়ার্সা ও এসআরএইচের বাংলাদেশে পরিবেশক হিসেবেও কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি এ খাতে ৪০ শতাংশের বেশি মূল্য সংযোজন করছে। মৌলিক কাঁচামাল আমদানি হলেও ফেব্রিকেশন ও অন্যান্য কাজের ৮০ শতাংশ দেশেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

প্রপার্টি লিফটসের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বমানের লিফট সরবরাহে উন্নত প্রযুক্তির মোটর ও কন্ট্রোল প্যানেলে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মান পরীক্ষার জন্য উন্নতমানের ল্যাব, আধুনিক টেস্টিং ফ্যাসিলিটিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কারখানা করা হয়েছে। এতে একদিকে মান ও নিরাপত্তার দিক থেকে গ্লোবাল ব্র্যান্ডের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে, অন্যদিকে দেশে লিফট তৈরিতে মূল্য সংযোজন বেড়ে যাওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানি করা লিফটের চেয়ে দামে সাশ্রয়ী হচ্ছে। বর্তমানে প্রপার্টি লিফটসের কারখানায় ২১০ জন কর্মী কাজ করছেন এবং ইনস্টলেশন ও সার্ভিসিংয়ের জন্য এক হাজারের বেশি মানুষ যুক্ত। তবে সারাদেশে নিরাপদ লিফট স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরও পাঁচ হাজার কর্মী নিয়োগ করার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

জানা গেছে, প্রপার্টি লিফটস ছাড়াও দেশে বর্তমানে লিফট তৈরি করছে ওয়ালটন। দেশে প্যাসেঞ্জার লিফট, কার্গো লিফট, হাসপাতাল লিফট, হোম লিফট, ক্যাপসুল লিফট, হাইড্রোলিক লিফট ও সিজার লিফট পাওয়া যায়। ধারণক্ষমতা ও ফিচারের ওপর ভিত্তি করে এসব লিফটের দাম ১৫ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত। সমমানের আমদানি করা লিফটের তুলনায় দেশে উৎপাদিত লিফটের দাম ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা কম। তবে ব্যবহার হওয়া লিফটের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এখনও আমদানিনির্ভর।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে লিফটের বাজার ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার, যেখানে বছরে গড়ে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার ইউনিট লিফট বিক্রি হয়। বর্তমানে লিফটের চাহিদা মূলত ঢাকাসহ বড় বড় নগরকেন্দ্রিক। ঢাকা ও ঢাকার আশপাশে লিফটের চাহিদা ৪৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ২০ শতাংশ। দাম কমলে এবং উৎপাদন বাড়লে লিফটের চাহিদা আরও বাড়বে।

তারা বলছেন, দেশীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে এবং সরকার থেকে নীতি সহায়তা পাওয়া গেলে এই শিল্প আরও বিকশিত হবে। এছাড়া দেশীয় কোম্পানিগুলো বড় আকারে উৎপাদনে গেলে দেশের লিফট বাজারের প্রবৃদ্ধি বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হবে এবং তা অন্তত পাঁচ বছর ধরে রাখা সম্ভব হবে। বৈশ্বিক বাজারেও শক্ত অবস্থান করে নিতে পারবে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/আ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments