ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য প্রায় ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চীন ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির কাছ থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় এসব জ্বালানি তেল কেনা হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব জ্বালানি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চীনের ইউনিপেক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এ জন্য ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। তবে কী পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে, সে তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জিটুজি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে জ্বালানি কেনার যে শর্ত ছিল, বুধবারের বৈঠকে তা শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত বিদেশি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের জন্য ছয়টি বিদেশি রাষ্ট্রায়ত্ত সরবরাহকারীর কাছ থেকে জিটুজি চুক্তিতে প্রায় ১৬ হাজার ৮৮ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি একই সময়ের জন্য দরপত্র ছাড়াই আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। দরপত্র ছাড়া সরাসরি পদ্ধতিতে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি বাড়াচ্ছে। এর আগে সরকার জ্বালানি চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেয়। জুলাই মাসে ৪ লাখ ৮০ হাজার টন অতিরিক্ত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার টন ডিজেল ও ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল ছিল।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় উৎসের পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজির সরবরাহও বাড়ানো হয়েছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম ১৫ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের সংকট নেই এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত সরবরাহ পরিস্থিতি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। সরকারের নতুন আমদানি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আগামী মাসগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments