ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বকেয়া অর্থ না পাওয়া এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আগের পোস্টের পর নতুন করে আরও একটি বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স। এবার তিনি জানিয়েছেন, বকেয়া অর্থ পেয়েছেন। তবে অর্থ পাওয়ার পরও ব্যাংকিং জটিলতাসহ নতুন কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।
এর আগে বেতন না পাওয়া, পরিবারকে অর্থ পাঠাতে না পারা এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন ইংলিশ এই কোচ। তার সেই বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। সোমবার সকালে সমকালকে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘৯ তারিখেই জোন্সের অ্যাকাউন্টে পুরো টাকা পাঠানো হয়েছে। রেমিট্যান্সের কারণে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগলেও ১০ তারিখের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাওয়ার কথা। কিন্তু আজ দিন শেষ হওয়ার আগেই তিনি যেভাবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন, তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে হতাশ।’
এরপর নতুন পোস্টে জোন্স নিজেই নিশ্চিত করেছেন, তিনি অর্থ পেয়েছেন। তবে তাতেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন এই কোচ। জোন্স বলেন, ‘এখন ব্যাংকিং সমস্যা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। আমি অর্থ পেয়েছি, তবে আরও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এমন কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে আমাকে আগে জানানো হয়নি।’
নিজের ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য কীভাবে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ও ভাগাভাগি করা হয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। জোন্সের ভাষায়, ‘আমার ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য যেভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়েছে, তা নিয়েও আমার গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।’
এরপর ঢাকায় এবং পরদিনও কয়েকটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার দাবি করেছেন জোন্স। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু মানুষ তার গাড়ির কাছে এসে গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছেন, গাড়ি ঘিরে ধরে টাকা চেয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবেও একাধিকবার তার কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
জোন্স বলেন, ‘স্ত্রী ও তিন সন্তানের কাছ থেকে দূরে থাকাটাই এরই মধ্যে কঠিন। গতকাল ঢাকায় এবং আজ আমি এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, যেগুলো আমাকে অস্বস্তিকর ও নিরাপত্তাহীন বোধ করিয়েছে। এর মধ্যে মানুষ গাড়ির কাছে এসে গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছে, আমাকে ঘিরে ধরে টাকা চেয়েছে। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে একাধিকবার আমার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।’
একসঙ্গে এসব পরিস্থিতি তার জন্য মানসিকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছেন জোন্স। তিনি জানান, ‘অনিশ্চয়তা ও নতুন নতুন সমস্যার সঙ্গে এখানকার জীবনযাপনের পরিস্থিতি মিলিয়ে সবকিছুই এখন আমার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে।’
নিজেকে একাকী, ভীত ও নিরাপত্তাহীন মনে হওয়ার কথাও জানিয়েছেন অনূর্ধ্ব-২০ দলের এই কোচ। তার ভাষায়, ‘কোনো সহমর্মিতা ছাড়া এখানে আমি খুবই একাকী বোধ করছি। আমি ভীত ও আতঙ্কিত। আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, নিজেকে নিরাপত্তাহীন ও একা মনে হচ্ছে।’
তবে সবশেষে পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান চান জোন্স। কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা ছাড়াই নিজের দায়িত্বে মনোযোগ দিতে চান তিনি। জোন্সের আশা, ‘আমি আশা করছি সবকিছুর সমাধান হবে। কারণ আমি শুধু কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়াই নিজের কাজটা করতে চাই।’
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments