শনিবার, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeএক্সক্লুসিভমীর আক্তার হোসেন: বছরের ব্যবধানেই ব্যবসার পতন ১১৪১ শতাংশ, তদন্তের দাবি (পর্ব-২)
spot_img

মীর আক্তার হোসেন: বছরের ব্যবধানেই ব্যবসার পতন ১১৪১ শতাংশ, তদন্তের দাবি (পর্ব-২)

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের ব্যবসা খাদের কিনারে চলে গেছে। হ্যা, ঠিকই শুনেছেন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানিটির ব্যবসার পতন হয়েছে এক হাজার ১৪১ শতাংশ। আগামী কয়েক বছরেও এই পতন থেকে প্রতিষ্ঠানটি উৎরাতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির এমন দুর্দশায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আগে প্রতিষ্ঠানটি নানারকম অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেছে। শুধু তাই নয়, বিগত বছরগুলোতে শেয়ারকারসাজি ও আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতিসহ নানারকম অনিয়ম জড়িয়ে পড়ে মীর আক্তার হোসেন। কারচুপির মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদনেও ফুলিয়ে-ফাপিয়ে দেখানো হয়। শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপারে তদন্ত করা উচিত বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

(মীর আক্তার হোসেনের অনিয়ম নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ প্রকাশ করা হলো দ্বিতীয় পর্ব। খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে তৃতীয় পর্ব।)

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর,২৪) এককভাবে মীর আক্তার হোসেনের প্রফিট বা মুনাফা হয়েছিল ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬৩০ টাকা। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর,২৫) লোকসান হয়েছে দুই কোটি ৯২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৭ টাকা। এক্ষেত্রে একবছরের ব্যবধানে কোম্পানির ব্যবসার পতন হয়েছে তিন কোটি ২০ লাখ ৬৮ হাজার ৪২৭ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িকভাবে এমন বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের একাধিক নেতা। তারা বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনেক আশার বাণী শুনিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি হয় মীর আক্তার হোসেন। কিন্তু তালিকাভুক্ত পরবর্তী প্রায় পাঁচ বছর যেতে না যেতেই কোম্পানিটির ব্যবসার দুর্গতি সত্যিই মেনে নেওয়া কষ্টকর। এই পতন কোম্পানিটির ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে পরিচালনা পর্ষদের অসততা ও অদক্ষতার বহিঃপ্রকাশ।

কোম্পানি সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মীর আক্তার হোসেনের বিক্রয় রাজস্ব এসে দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫৩ টাকা। আর এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৭ কোটি ৬৭ লাখ ২২ হাজার ৬৩ টাকা। বছরের ব্যবধানে বিক্রয় রাজস্ব কমেছে ২৮ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার ১১০ টাকা বা ৭৫ শতাংশ।

কোম্পানিটির শুধু যে বিক্রয় রাজস্ব কমেছে, তাই নয়। অস্বাভাবিকভাবে কমেছে গ্রস প্রফিট বা মুনাফাও। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মীর আক্তার হোসেনের গ্রস প্রফিট হয়েছিল ১১ কোটি ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ২৮৫ টাকা। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তা এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র দুই কোটি ২৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৬ টাকা। এক্ষেত্রে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির গ্রস প্রফিট কমেছে ৮ কোটি ৯৭ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বা ৮০ শতাংশ।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তাদের ব্যবসায়িক দুর্বলতা ও অসততা প্রকাশ পাচ্ছে আরও বেশি।প্রতিষ্ঠানটি আদৌ ঘুড়ে দাঁড়াতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অপরিপক্কতা ও অসততার পরিচয় দিয়েছে মীর আক্তার হোসেনের ম্যানেজমেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদ, জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: চরম অর্থ সংকটে মীর আক্তার হোসেন, বিক্রয় কমেছে ৫০ শতাংশ (পর্ব-১)

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজারের বিভিন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ করে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মীর আক্তার হোসেনের আনরিয়েলাইজড লোকসান হয়েছে ৬৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩৮ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪০ লাখ ৩২ হাজার ৮৪৮ টাকা। এক্ষেত্রে বছরের ব্যবধানে লোকসান বেড়েছে ২৪ লাখ ৬৪ হাজার ৮৯০ টাকা বা ৬১ শতাংশ।

এসব ব্যাপারে জানতে মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের কোম্পানি সচিব মো. মেসবাউস সুন্নাহ্’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, আমরা কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো। আপনার যেভাবে মোন চায় আপনি নিউজ করেন।

এরপর প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও বর্তমানে উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন পরিমল কুমারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল হক ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, বিগত সরকারের মদদপুষ্ট হয়ে মীর আক্তার হোসেন ব্যবসা করেছে। নিজেদের যোগ্যতার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। আগামীতে প্রতিষ্ঠানটির দশা আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেথ্য, মীর আক্তার হোসেন-এর পরিশোধিত মূলধন ১২০ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, যেখানে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা-পরিচালক ব্যতীত) মালিকানা রয়েছে ৫১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments

error: Content is protected !!