ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর জিজান তেল শোধনাগারে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে জানা গেছে, এর আগে হামলার কারণে আরামকোর উৎপাদন সক্ষমতা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পর নতুন হামলায় উৎপাদন স্থাপনায় কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করছে কোম্পানিটি। এবারের হামলার মাত্রাও আগের হামলার কাছাকাছি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত শিল্পনগরী জিজান অতীতেও বেশ কয়েকবার হুথিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। শহরটির তেল শোধনাগারটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা নিয়ে নির্মিত। ফলে এটি সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বড় তেল শোধনাগার। এখানে পেট্রোলিয়ামজাত বিভিন্ন পণ্য, অতিনিম্ন সালফারযুক্ত ডিজেলসহ অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি উৎপাদন করা হয়।
লোহিত সাগরের তীরে অবস্থানের কারণে জিজান শোধনাগারটি সৌদি আরবের পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই স্থাপনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ জুলাইয়ের হামলার পর শোধনাগারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে জুলাই মাসে জিজান বন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত পণ্য পরিবহন করা হয়েছিল। এর আগে ২৪ জুলাই দুটি ট্যাংকার বন্দর ছাড়ার পর জলপথে আর কোনো পণ্য বোঝাইয়ের রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে বড় ধরনের সংঘাত বন্ধ রাখা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরাও জুলাইয়ে সৌদি আরবকে ঘিরে নতুন করে সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
গত ২০ জুলাই হুথিরা সৌদি বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়। এরপর সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের নৌপথকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে শুরু করে তারা।
এরই মধ্যে সপ্তাহান্তে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্টে সামরিক অভিযান জোরদার করে হুথিরা। লোহিত সাগর উপকূলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তারা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা মোখা বন্দর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকার দিকে অগ্রসর হয়।
সাম্প্রতিক সংঘাতও এরই ধারাবাহিকতা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যম মোখা ও তাইজের আশপাশে নতুন করে সংঘর্ষের খবর জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত ওই এলাকায় সংঘর্ষে ১৪০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৮৪ জন সরকারি বাহিনীর সদস্য এবং ৫৭ জন হুথি যোদ্ধা রয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের (ইউএন ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত তীব্র হওয়ার ফলে মাত্র দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদিকে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী উপকূলীয় এলাকায় হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments