বৃহস্পতিবার, ১৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআন্তজার্তিকইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন পুতিন
spot_img
spot_img

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন পুতিন

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অন্যদিকে শান্তি প্রচেষ্টায় ‘নতুন গতিশীলতা’ তৈরি হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে ইউক্রেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে অনুষ্ঠিত একটি অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ একাধিক দেশ শান্তি চুক্তিতে সমর্থন দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

পুতিন বলেন, “শেষ পর্যন্ত সংঘাতের সঙ্গে জড়িত দেশ দুটিকেই অর্থাৎ রাশিয়া ও ইউক্রেনকে এই সংকটের সুরাহা করতে হবে। যাঁরা এই সমঝোতায় অবদান রাখার চেষ্টা করছেন, আমরা তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। এখানে কি কোনো সম্ভাবনা আছে? আমার মতে, হ্যাঁ, আছে।”

অন্যদিকে কিয়েভে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার সক্রিয় পর্ব নতুন করে শুরু হওয়ায় শান্তি প্রচেষ্টায় নতুন গতিশীলতা দেখা যেতে পারে।

তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার এই সক্রিয় পর্বটি নতুন করে শুরু হওয়ায় আমরা এখন শান্তি প্রচেষ্টায় একটি নতুন গতিশীলতা দেখতে পাব। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের ‘খবরের খোঁজ রাখতে’ বলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে ইউক্রেন। যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে এমন ইতিবাচক মূল্যায়ন খুব কমই দেখা গেছে। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ বৈঠকে বসেছিল।

এরপর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বন্দরে পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এর ফলে কৃষ্ণসাগর দিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, যা বিশ্ববাজারে শস্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে পুতিনের সাম্প্রতিক আশাব্যঞ্জক মন্তব্যের পর শিকাগো এক্সচেঞ্জে গমের ফিউচার বা ভবিষ্যৎ বিক্রয়চুক্তির মূল্যসূচক ২ শতাংশের বেশি কমেছে।

তবে পুতিন বা সিবিহা, কেউই শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাব্য কারণগুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। বরং ইউক্রেনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ আলোচনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন পুতিন।

এক প্রশ্নের জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, বেসামরিক পণ্যবাহী জাহাজে ইউক্রেনের হামলা এবং বেসামরিক বিমানে হামলার হুমকি ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের’ শামিল। এর ফলে দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা জটিল হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এয়ারলাইন ও বিমা কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনের উপস্থিতির কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

তবে তিনি জানান, ইউক্রেন কেবল রাশিয়ার সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে এবং কোনো বেসামরিক বিমানের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে না। গত বুধবার ইউক্রেন জাতিসংঘের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)-কে সদস্য দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার আকাশসীমায় বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের নিজস্ব আকাশসীমাও অনিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুতিন। তিনি বলেন, “ইউক্রেনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিবেচনা করলে, এই মুহূর্তে বলা কঠিন যে এসব যোগাযোগ কতটা শান্তি চুক্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।”

পুতিন আরও বলেন, কিন্তু যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং তা নিয়মিতভাবে চলছে এবং তা মূলত দুটি দেশের গোয়েন্দা চ্যানেলের মাধ্যমেই হচ্ছে।এদিকে কিয়েভে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ভারত কোনোভাবে সহায়তা করতে পারলে তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে গত সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনে পুতিনকে জানিয়েছিলেন, মানবতার স্বার্থেই ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন। যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো প্রচেষ্টায় নয়াদিল্লি সব ধরনের সমর্থন দেবে বলেও তিনি জানান।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments