ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: খাদ্যপণ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, সে হারে বেতন-ভাতা না বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে, নিম্ন আয়ের মানুষদের অবস্থা খুবই করুণ। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। গরিবের পাতে এখন আর সামান্য পুষ্টিটুকুও নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রোটিনের ঘাটতির কারণে তাদের মধ্যে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশুরা কম খেলে বা অতিপ্রয়োজনীয় পুষ্টিগুলো না পেলে তারা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। তাদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এই অপুষ্টি দীর্ঘ মেয়াদে দেশের উৎপাদনশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাদ্যের তালিকায় শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ, পানি ও চর্বি-এই ছয় ধরনের খাদ্যের সমন্বয় থাকতে হয়। একজন মানুষের প্রতিদিনের খাবারে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ শর্করা, ১৫ শতাংশ প্রোটিন ও ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ স্নেহজাতীয় খাবার প্রয়োজন। এর ব্যত্যয় হলে স্বাভাবিকভাবেই তা স্বস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে। সুষম খাবারের ঘাটতি হলে তা সরাসরি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার অপরও এর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বৈশ্বিক কৃষ্ণ সূচক বা গ্লোবাল হাজার ইনডেক্স (জিএইচ আই) ২০২৪ এর কথা অনুয়ায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১১ দশমিক ৯ শতাংশ অপুষ্টির শিকার। শিশু ও নারীর অপুষ্টি মারাত্মক পর্যায়ে। অপুষ্টিজনিত কারণে ২৩.৬ শতাংশ শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং ৩ শতাংশ জন্মের পাঁচ বছরের মধ্যে মারা যাচ্ছে। অপুষ্টিজনিত কারণে দেশে ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার শিশু খর্বকায়। নারীদের পুষ্টির ঘাটতি পরবর্তী সময়ে গর্ভজাত শিশুর জন্য ক্ষতিকর। বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক-২০২৪ এমন তথ্য উঠে এসেছে।
ইউএসএমইডি-এর তথ্য মতে, বাংলাদেশে ৫০ শতাংশ গর্ভবতী মা ও শিশু আগে থেকেই পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। লাগামহীন দাম বাড়ার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ খাবারের পরিমাণ কমলে আগামীতে পুষ্টিহীন মানুষের সংখ্যা আরো বাড়তে পরে। আমাদের দেশে গরিবের প্রোটিন বন্য হয় ডিম ও দুধকে। কিন্তু এসব পণ্য ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশু-কিশোরদের ওপর।
বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, পণ্যের দাম বেশি হওয়ার কারণে দেশের ১২ কোটি ৫২ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খেতে পারছে না। এটি ছিল ২০২১ সালের হিসাব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.





























Recent Comments