
এওয়াইএমএ রানা:
চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) বিপর্যস্ত এক সময় পার করছে বাংলাদেশ সহ গোটা দুনিয়া। করোনাকালে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের একাংশ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ত্রাণের জিনিসপত্র আত্মসাতের অভিযোগ সহ নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, কোটিপতি, ধনী এমপিরা বিরুদ্ধে এলাকার খোঁজখবর না নিয়ে ঢাকায় বসে থাকার অভিযোগ উঠছে সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে। তবে সমালোচনার মধ্যেও কিছু কিছু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এলাকার এমপি সহ উপজেলা চেয়ারম্যান এলাকায় নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকার জনগণের অভাব অনটন, দুঃখ দুর্দশা দূর করা সহ করোনা প্রতিরোধের জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়ে জনগণের ভালবাসায় তারা সিক্ত হয়েছেন এমন রাজনীতিবিদের সংখ্যাও অনেক। এ রকম আলোচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে শেয়ারবাজার.কমের এই প্রতিবেদন।
১) তোফায়েল আহমেদ :
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া শুরু থেকেই তোফায়েল আহমেদ এলাকার কোনো মানুষ যাতে দুঃখ দুর্দশায় না থাকেন, সেই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি নিয়মিত এলাকায় খাবার পাঠারো থেকে শুরু করে নিজ উদ্যোগে সেখানে দুঃস্থদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। গরীব দুঃখীদের নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন। দুঃস্থ , মধ্যবিত্ত ও যারা এখন অভাব অনটনে রয়েছে তাদেরকেও আর্থিক সহযোগিতা সহ সবধরনের সহযোগীতা করা হচ্ছে তোফায়েল আহমেদের উদ্যোগে।
২) মাশরাফি বিন মর্তুজা :
কভিড-১৯ সংকটের শুরু থেকেই মাশরাফি বিন মর্তুজা নড়াইলবাসীদের জন্য নিরলসভাবে ভাবে কাজ করছেন। তিনি ঢাকায় বসে না থেকে এলাকায় যেমন ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছেন, তেমনি মানুষকে সচেতন করা এবং অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসার ব্যাপারেও তার উদ্যোগ প্রশংশা পেয়েছে। সম্প্রতি তিনি করোনাভাইরাসে পজিটিভ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
৩) নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন :
ভোলার এমপি নুরুন্নবী শাওন করোনা সংকটের সময় এলাকায় দিন-রাত পরিশ্রম করে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ঢাকায় অবস্থান না করে তার নির্বাচনী এলাকায় পড়ে আছেন। তিনি এলাকার দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সারাক্ষণ ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়েসাধারন মানুষের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
৪) শামীম ওসমান :
নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমান করোনা সংকটের শুরু থেকেই নারায়নগঞ্জবাসীদের সবচেয়ে আস্থার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি এলাকার করোনায় আক্রান্তরা যাতে চিকিৎসা পায় তা নিশ্চিত করছেন। নিজ উদ্যোগে করোনা পরীক্ষার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছেন। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জে করোনায় যারা মারা যাচ্ছে তাদের দাফন যাতে ঠিকমতো হয় সেই ব্যাপারেও তিনি তদারকি করছেন।
৫. মির্জা আজম :
এমপি মির্জা এমপি জামালপুরে করোনা সংকটের সময় সাধারন মানুষের বন্ধু হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছেন। করোনা সংকটে তিনি সাধারন মানুষের অভাব, অনটন, দুঃখ, দুর্দশা দূর করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দরিদ্র মানুষ যেন ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মির্জা আজম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার বিষয়গুলো নিশ্চিত করার জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
৬) শেখ হেলাল :
সংসদ সদস্য শেখ হেলাল বাগেরহাট এলাকায় করোনা সংকটের পর থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকার সাধারন মানুষের ত্রাণ নিয়ে কোন অভিযোগ নাই। খাদ্য সংকট বা চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো অভিযোগ নেই তার নির্বাচনী এলাকায়।
৭) শেখ তন্ময় :
করোনা সংকটের শুরু খেকেই শেখ তম্ময় এলাকায় অবস্থান করে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের খোজখবর রাখছেন। তিনি একদিকে যেমন ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন অন্যদিকে চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষদের ঘরে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ জনগণের কাছে অভিনন্দিত ও ব্যপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
৮) নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) :
নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) করোনা সংকটে সার্বক্ষণিকভাবে নিজ এলাকার সাধারন মানুষের পাশে খেকে ব্যপকভাবে প্রশংশিত হয়েছেন। এলাকার সব শ্রেনীর মানুষের সমস্যা ও অভাব অনটন দূর করার জন্য তিনি অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নিজ উদ্যোগে নিজস্ব তহবিল থেকে তিনি নিয়মিতভাবে অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিরে যাচ্ছেন।
৯) শাহরিয়ার আলম :
শাহরিয়ার আলম এমপি রাজশাহীতে নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি মানুষকে নগদ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। দুঃস্থ মানুষের মাঝে নিয়মিত খাদ্য ও অর্থ সহায়তা করে তিনি নিজেকে সাধারন জনতার বন্ধু হিসেবে নিয়ে গেছেন।
১০) একরাম চৌধুরী :
একরাম চৌধুরী এমপি নোয়াখালীতে করোনা সংকটের সময় নিজ উদ্যোগে অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন। দুঃস্থ ও নিন্ম আয়ের মানুষকে ত্রাণ দিয়ে তিনি এলাকায় জনবান্ধব এমপি হিসেবে নিজেকে আরেকবার প্রমাণ করেছেন।
১১) মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী :
করোনা সংকটের শুরু থেকে নিজ জীবনের কোনরুপ তোয়াক্কা না করে সাধারন জনগনের মাঝে দিন-রাত পরিশ্রম করা জনপ্রতিনিধি চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান উপাধিতে ভ‚ষিত কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন। তিনি নিজ উদ্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার ও অর্খ বিতরন করে যাচ্ছেন। এছাড়াও করোনা আক্রান্তদের টেষ্টের ব্যবস্থা, আক্রান্তদের বাড়ীতে চিকিৎসক প্রেরন, আক্রান্তদের তালিকা করে নিয়মিত খাবার প্রেরন সহ এলাকার সর্বশ্রেনীর মানুষের সার্বক্ষনিক খোঁজ-খবর রাখছেন এই জনপ্রতিনিধি। ঢাকায় অবস্থান না করে সার্বক্ষনিক এলাকায় অবস্থান করা এই জনপ্রতিনিধির দুঃসাহসিক ও মানবিক ভ‚মিকার স্বীকৃতিস্বরুপ স্থানীয়রা তাকে ‘করোনা ব্রাদার’ অর্থাৎ করোনা আক্রান্তদের ভাতৃপ্রতীম দরদি বন্ধু উপাধিতে ভ‚ষিত করেছেন।
এছাড়াও আরও কয়েকজন এমপি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি করোনা সংকটের সময় নিজ নিজ এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এটা বলতেই হয় যে, সিংহভাগ জনপ্রতিনিধি করোনা সংকটে মানুষের পাশে নেই। বিশেষ করে যারা ব্যবসায়ী বা অন্য পেশা থেকে এসে নির্বাচিত এমপি হয়েছেন তাদের এই করোনা সংকটে একেবারেই অনুপস্থিত দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাংশ ব্যতিত রাজনীতিবিদরাই সাধারন জনতার পাশে থেকে সংকট মোকাবেলায় ভ‚মিকা রাখছে।
























Recent Comments