শনিবার, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅনুসন্ধানী প্রতিবেদনবিনিয়োগকারীদের শত কোটি টাকা নিয়ে উধাও ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ! (ভিডিও সহ)
spot_img
spot_img

বিনিয়োগকারীদের শত কোটি টাকা নিয়ে উধাও ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ! (ভিডিও সহ)

এম এইচ রনি, এ ওয়াই. এম রানা: ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের শত কোটি টাকা আত্নসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের সামনে গিয়ে দেখা যায়, অর্ধশত বিনিয়োগকারী হাউজটির সামনে বিক্ষোভ করছে। কিছু বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে সর্বশান্ত হওয়ার আশংকায় হাউজটিতে ইট পাটকেল নিক্ষেপসহ ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক এসে বিনিয়োগকারীদের আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়ে ভাঙচুর থেকে নিব্রত করেন।

ভিডিওটি DSB TV তে দেখতে নিচের লিংকটি ক্লিক করুন

https://youtu.be/zB7DqtF-UUw

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদ উল্লাহ পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে গতকাল থেকে রাজধানী ঢাকার পল্টনে অবস্থতি প্রধান শাখাসহ আরো দুটি শাখা বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর সবগুলো মোবাইল ফোন নাম্বার বন্ধ করে দেন। ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বারটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

আরো জানা যায়, শত শত একাউন্টে জমা করা নগদ টাকাসহ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রয় করে কোটি কোটি টাকা নিয়ে শহিদ উল্লাহ পালিয়ে গেছে। এছাড়াও গত সপ্তাহে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ থেকে ইস্যুকৃত চেকগুলো ডিজঅনার হয়ে বিনিয়োগকারীদের ব্যাংকে থেকে ফেরত আসে। চেক ডিজ অনার হওয়ার কারণ জানতে শত শত বিনিয়োগকারী গতকাল সকাল থেকে হাউজটির সামনে ভিড় শুরু করে। কিন্তু ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের সবগুলো শাখাই তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে দেখে বিনিয়োগকারীরা শহিদ উল্লাহসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ফোন দিলেও সবার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী হাজী মোহাম্মদ নিশাদ বলেন, আমি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পল্টনের এ হাউজের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন করছি। প্রতিদিনের মত গতকাল সকালে এসে দেখি হাউজ বন্ধ। তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। হাউজের সামনে অনেক বিনিয়োগকারীর ভীড় জমে রয়েছে। এ অবস্থা দেখে সাথে সাথেই হাউজের এমডির নাম্বারে কল করি। কিন্তু নাম্বার বন্ধ পাই। পরবর্তীতে এমডির ধানমন্ডি ৫ নাম্বারের বাসায় যাই আমরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি তার বাসায় একটি আসবাবপত্র নেই। সম্পূর্ণ বাসা খালি। তার বাসাটি ছিলো নিজের কিন্তু তাও ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা। পরবর্তীতে তার ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বারটিও বন্ধ পেয়েছি।

এ বিষয়ে আরেক ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, আমি কিছু দিন যাবৎ অসুস্থ তাই কিছু শেয়ার বিক্রয় করেছি চিকিৎসা করানোর জন্য। শেয়ার বিক্রি করার পর ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ আমাকে গত সোমবারে ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকার একটি চেক দেয়। তা আমি ব্যাংকে জমা দেই। গতকাল ব্যাংক থেকে আমাকে কল করে বলে চেক ডিজ অনার হয়েছে। সাথে সাথে ব্যাংক থেকে চেক নিয়ে এ হাউজে আসি। এসে দেখি হাউজটি তালা বদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তা দেখে আমি হাউজের এমডিকে কল দেই। কিন্তু তার নাম্বার বন্ধ। মোহাম্মদ শহিদুল্লার বিও আইডি নং: ১২০৪০৫০০৩৪৫০৪৭৫১ ও ১২০৪০৫০০৪৩৬২৩৪৮১ কোড নং: ১৩০৮৩ ও ১৬৪৪৭।

এ প্রসঙ্গে ডিএসই ব্রোকারেজ এসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, অতীতে এ ধরণে ঘঠনা যখনি ঘঠেছে আমরা প্রয়োজন ক্ষেত্রে হাউজ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফিরিয়ে দিয়েছি। এখানে বিনিয়োগকারীদের নিরাশ হওয়ার কিছু নাই। যদি ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের এমডি অর্থ নিয়ে দেশের বাহিরে ভেগে যায়। তা যদি সত্যি হয় তা হলে এখন ব্যাংকে হাউজের লিকুইড ব্যালেন্স কত আছে তা আগে দেখতে হবে। তার উপরে নির্ভর করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন ডিএসই পারে তাদের একাউন্ট লক করে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ডিএসইতে অভিযোগ জানাতে হবে।

একই প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক ডেইলি শেয়ারবাজারকে বলেন, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ওঠেছে তা যদি সত্যি হয় তা হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এধরণের ঘঠনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। যদি ঘঠনাটি সত্যি হয় তা হলে আমরা আইনি প্রসেসে আগাব।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহি পরিচালক ও মূখপাত্র মো: সাইফুর রহমান ডেইলি শেয়ারবাজারকে বলেন, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের কর্মকর্তারা পালিয়েছে এ অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ডিএসইতে বিনিয়োকারীদের অভিযোগ করতে হবে। আমাদের বিএসইসির বরাবর অভিযোগ করলে পরবর্তীতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছে, দীর্ঘ দিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে বিরাজ করছে অস্থিতিশীলতা। লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী হারিয়েছে তাদের পুঁজি। তার পরেও কিছুটা লাভের আশায় সিকিউরিটিজ হাউজগুলোর ওপর ভরসা করে প্রতিনিয়তই অর্থ বিনিয়োগ করে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। এখন যদি হাউজগুলোই বিনিয়োগকারীদের অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায় তা হলে তারা ভরশা করবে কার উপর। এ ঘঠনার সঠিক কোন সমাধান না হলে বিনিয়োগকারী শূন্য হয়ে যাবে পুঁজিবাজার।

উল্লেখ্য, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের শাখা রয়েছে মোট ৩টি। তাদের প্রধান শাখা ৫৭, পুরানা পল্টন (৩য় তলা) মতিঝিল, টাকায়, দ্বিতীয় শাখা: ৩৮ জনসন রোড (রাইসাহেব বাজার), ঢাকায় এবং তৃতীয় শাখা: কে. আর কমপ্লেক্স (২য় তলা), ক-০৮ লিংক রোড, ঢাকায় অবস্থিত।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম এইচ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments