ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ক্রিকেটে ভারতের গোয়ালিয়রের নাম এলেই দুটি ভিন্ন সময়ের কথা উঠে আসে। একটি বর্তমানের এবং আরেকটি ২০১০ সালের আগের। মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের এই জেলায় সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়েছিল ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ওয়ানডের সেই ম্যাচে ১৫৩ রানে জয় পেয়েছিল ভারত। তবে সেই ঘটনার থেকে বড় হয়ে সামনে এসেছিল শচীন টেন্ডুলকারের ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি। আজও গোয়ালিয়র সেই স্মৃতি বহন করে চলেছে। ক্যাপ্টেন রূপ সিং স্টেডিয়ামে সেই স্কোরবোর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। এই স্মৃতি পুরোনো।
এবার স্মৃতিতে নতুন ঘটনা যুক্ত করার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে শ্রীমন্ত মাধবরাও সিন্ধিয়া ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এটি গোয়ালিয়র জেলাকে ১৪ বছর পরে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে। তাতে মাধবরাও সিন্ধিয়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো এমন ম্যাচের সাক্ষী হবেন দর্শকরা। আবার গোয়ালিয়র হিসেবে সেটি পুরোনো। ১৯৭৮ সালে ভারতীয় হকি খেলোয়াড় রূপ সিংয়ের নামে গোয়ালিয়রে একটি হকি স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৩২ ও ১৯৩৬ সালের অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন রূপ সিং। তার নামে করা হকি স্টেডিয়ামটিতে ১৯৮৮ সাল থেকে ক্রিকেট শুরু হয়। ১৮ হাজার ধারণক্ষমতার এই মাঠে ১৯৯৬ বিশ্বকাপের একটি ম্যাচও গড়িয়েছিল। সব মিলিয়ে ১২টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল রূপ সিং স্টেডিয়ামে।
২০১০ সালের পরে আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ গোয়ালিয়রে বসেনি। এরপরে এই জেলায় ২০১১ সাল থেকে ৩০ হাজার ধারণক্ষমতার একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম তৈরির কাজ শুরু করা হয়। রাজনীতিবিদ মাধবরাও সিন্ধিয়ার নাম অনুসারে স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে এর আসন সংখ্যা ৫০ হাজারে উন্নীত করা হবে। আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই স্টেডিয়ামে হবে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ, সেটি বাংলাদেশ-ভারতের তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি।
এই ম্যাচ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। টিকিট ছাড়ার ১ ঘণ্টার মধ্যে সবগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। ম্যাচটি শুরু করার আগে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠানের আয়োজনও করতে পারে মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এমপিসিএ)। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তারা সভা করেছেন। সব মিলিয়ে ২০১০ সালের পরে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল এই জেলায়, সেটি পূরণে সবাই উদগ্রীব।
নিরাপত্তার চাদরে গোয়ালিয়র-
কানপুর টেস্ট ম্যাচের মতো গোয়ালিয়রেও হামলার হুমকি দিয়েছিল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। ভারতীয় ধর্মীয় এই সংগঠনের হুমকির বিপরীতে বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বাংলাদেশ দল শহরটিতে পা রাখার আগেই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে গোটা গোয়ালিয়র। কোনো রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতেই তিন স্তরের নিরাপত্তাও সাজানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত না করার দাবিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করার কারণে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ২০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারীকে।
নিরাপত্তা নিয়ে সিটি সুপারিনটেনডেন্ট (সিএসপি) অশোক জাদন ভারতীয় এক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এ ম্যাচটি কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া মাঠে গড়াতে গোয়ালিয়রের প্রায় ৫ হাজার নিরাপত্তা কর্মী বিভিন্ন স্তরে কাজ করছেন।’
এর আগে হিন্দু মহাসভার জাতীয় সহসভাপতি জয়বীর ভরদ্বাজ জানিয়েছেন, গোয়ালিয়রের এ ম্যাচটি বয়কটের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা আহ্বান জানাবেন যাতে কেউ এ ম্যাচটি না দেখতে যায়। এ দিকে ম্যাচটি ঘিরে বিক্ষোভ মিছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন স্থানীয় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
এছাড়া আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে অথবা ধর্মীয় উত্তেজনা উসকে দেয় এমন অডিও-ভিডিও, ছবিসহ কোনো ব্যানার, পোস্টার এবং উত্তেজক বার্তা বহনকারী কিছু প্রচার করা যাবে না। পাঁচ জনের বেশি একত্র হওয়া, আতশবাজি বহন করা, ছুরি বা বর্শার মতো ধারালো অস্ত্রপাতি বহন করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যে কোনো স্থাপনার ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কেরোসিন, পেট্রোল ও অ্যাসিড বহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিরাপত্তার চাদরে চলছে দুই দলের অনুশীলন।
বাংলাদেশ দল শুরুতে দিনের আলোয় তীব্র তাপের মধ্যে অনুশীলন করেছে। গতকাল ফ্লাডলাইটের আলোতেও অনুশীলন করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সাদা পোশাকে ভারতের বিপক্ষে লড়াই করতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার ২০ ওভারের ক্রিকেটে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের আশা করছেন সবাই। নাজমুল হোসেন শান্তরা তার কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারেন, সেটিই এখন সময়ের অপেক্ষা। গোয়ালিয়রে প্রথম টি-টোয়েন্টি শেষে ৯ অক্টোবর দিল্লিতে দ্বিতীয় ও ১২ অক্টোবর হায়দরাবাদে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.




























Recent Comments