ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: অতিরিক্ত দরে বিডিং করিয়ে শেয়ার দর অতিমূল্যায়িত করার পেছনে যারা জড়িত তাদের নজরদারির আওতায় এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)।

অতিরঞ্জিত আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা (ইলিজিবল ইনভেস্টর) নীতিমালা অনুযায়ী দর প্রস্তাব দিয়েছে কি-না তার ব্যাখ্যা চাইবে বিএসইসি।
গত বুধবার কমিশনের ৭৪৫তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিএসইসির তথ্যমতে, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে যদি কোনো কোম্পানির বিডিংয়ে ৬০ টাকার বেশি কোনো যোগ্য বিনিয়োগকারী দর প্রস্তাব করে তাহলে, ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জারি করা বিএসইসির সার্কুলার অনুসারে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বিডিংয়ের মাধ্যমে অনেক ইলিজিবল ইনভেস্টর কারসাজি করে পার পেয়ে যাচ্ছে। তারা এ পদ্ধতিকে কারসাজির হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছে। বর্তমান কমিশন এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে বিডিংয়ে কারসাজির বিষয়গুলোর প্রতি আরো আগে নজর দেয়া উচিৎ ছিলো।
উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ওয়ালটন। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানিটির শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সর্বনিম্ন ৩১৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৬৫ টাকা দর প্রস্তাব করে। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নির্দেশক মূল্য (কাট-অব-প্রাইস) ৩১৫ টাকার ওপর ২০ শতাংশ ছাড়ে ২৫২ টাকা দরে লটারিতে বরাদ্দ পান। এর ফলে ১০০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করতে গিয়ে মাত্র ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৩টি শেয়ার ইস্যু করতে হয়েছে, যা কোম্পানির মোট শেয়ারের মাত্র শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ।
স্বল্প সংখ্যক ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার থাকায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর লেনদেন শুরুর প্রথম সাত কার্যদিবসে ওয়ালটনের শেয়ারের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধির পরও সেকেন্ডারি বাজারের বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে পারেননি। মাত্র সাত দিনেই শেয়ার দর তিন গুন বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সমালোচনা তৈরি হলে ওয়ালটনসহ যেসব কোম্পানির যেসব কোম্পানির ১০ শতাংশের কম ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার রয়েছে, সেসব কোম্পানির ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার বাড়াতে এসইসির ওপর চাপ তৈরি হয়।
Recent Comments