
ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক:
বাংলাদেশের ক্যানাল, হ্রদ, পুকুর, নদী আর ভূ-উপরিভাগের পানি যেন বিষ। এসব পানিতে উদ্বেগজনক উচ্চ হারে বিদ্যমান বিষাক্ত রাসায়নিক, এন্টিবায়োটিকস ও অন্যান্য ড্রাগস। ক্ষুদ্র অণুজীব যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য পরজীবী যেসব রোগ সৃষ্টি করে তা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয় এন্টিবায়োটিক। এর যথেচ্ছ ব্যবহার পরিবেশে এন্টিবায়োটিকের বিস্তার ঘটাচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইউপিআই।
বাংলাদেশে এন্টিমাইক্রোবায়াল ড্রাগ ব্যবহারে তেমন কোনো নিয়মনীতির বালাই নেই। স্বাস্থ্যখাতে এবং কৃষিজ উৎপাদনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এন্টিবায়োটিক। পাশাপাশি বর্জ্যপানির মানসম্পন্ন ব্যবস্থাপনার অভাবে বাংলাদেশের পানি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে । এতে পানিতে এন্টিবায়োটিক বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ কারণে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় এই প্রতিবেশী দেশটিতে এন্টিমাইক্রোবায়াল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
শুক্রবার ‘সায়েন্স অব দ টোটাল এনভায়রনমেন্ট’ নামের জার্নালে একটি নতুন গবেষণা প্রকাশ হয়েছে পানি ইস্যুতে। এতে গবেষকরা শহর ও গ্রামীণ উভয় ক্ষেত্রেই পানিতে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন রকম ড্রাগ বা ওষুদের বিপুল পরিমাণ উপস্থিতি দেখতে পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে অ্যামোক্সিলিন, ক্লিনিদামাইসি, লিনকোমাইসিন, লিনেজোলিডদ, মেট্রোনিডাজোল, মোক্সিফ্লোক্সাসিন, নালিডিক্সিক এসিড ও সালফাপিরিডিন উল্লেখযোগ্য।
এ গবেষণার জন্য ২০১৯ সালে বিভিন্ন পুকুর, ক্যানাল, লেক, নদী ও হস্তচালিত নলকূপ, নিমজ্জিত পাম্প ও পানিশোধন স্থাপনা থেকে বসন্তকালে পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এতে দেখা গেছে, হাসপাতাল থেকে নিঃসৃত আবর্জনাযুক্ত পানি পাইপের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়। তারপর সেই পানি সোজা চলে যায় পানিশোধন কেন্দ্র। এখান থেকে এন্টিবায়োটিক উপাদান প্রাকৃতিক জলাধারে যুক্ত হয়।
এক্ষেত্রে একমাত্র উপাদান এন্টিবায়োটিকই নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিষন্নতাবিরোধী ফ্লুক্সেটিন বিভিন্ন রকমের এন্টিবায়োটিক বিরোধী হিসেবে আবির্ভূত হয়। গবেষকরা তাদের গবেষণায় লিখেছেন, বাংলাদেশের উপরিভাগের পানিতে যথেষ্ট পরিমাণে ওষুধ ও কৃষিজাত ফাঙ্গাসবিরোধী উপাদানের যথেষ্ট উপস্থিতি।



























Recent Comments