ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: অনেকেই নতুন বছরে বেশি ব্যায়াম করার সংকল্প করেছেন। এর মধ্যে বয়স্করাও বাদ যাননি। হয়তো নিজের সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করার প্রথম সপ্তাহে শুরুও করেন, কিন্তু কিছুদিন পরই পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যান। হাঁটার জন্য জুতা পরার চেয়েও টেলিভিশন হয়ে ওঠে প্রলুব্ধকর। আর দায় এড়াতে, আজ খুব ঠাণ্ডা বা খুব গরম, একদমই সময় নেই বা ইচ্ছা করছে না- এমন সব অকাট্য অজুহাত তো আছেই।

এভাবে শুয়ে-বসে থাকার জীবনধারা দীর্ঘজীবন এবং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আবার জিজ্ঞেস করলে এদের অনেকেই বলবেন, এতে জীবন সংক্ষিপ্ত হলেও তাদের মাথাব্যথা নেই। ফলে একাধিক জটিল ও স্থায়ী রোগ- স্থূলতা, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ এবং আরও অনেক রোগ বাসা বাঁধে। ডাক্তার আর পথ্যের খরচ জীবনযাপন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এটি অবশ্য কেউই চান না। কিন্তু এসব প্রতিরোধের জন্য চাই অনুপ্রেরণা। চলুন জেনে নিই নিজের প্রতিজ্ঞায় অটল থাকতে কী করা যেতে পারে-
প্রয়োজন প্রচেষ্টার-
ব্যায়ামে ধারাবাহিকতা রাখতে প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চার করতে হবে। পছন্দ না হলেও ডিমেনশিয়া প্রতিরোধসহ অন্যান্য অঙ্গকেও রক্ষার জন্য এতটুকু করতে হবে। কারণ ব্যায়াম মস্তিষ্কের পাশাপাশি শরীরের বাকি অংশকেও রক্ষা করে। দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে বাঁচতেও এর বিকল্প নেই।
কাজে লাগানো যায় ইউটিউব-
ইউটিউবে বয়স্ক ব্যক্তিদের বাড়িতেই করার মতো সহায়ক ভিডিওগুলো দেখতে উৎসাহিত করতে হবে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিং ইউটিউবের মাধ্যমে বয়স্কদের ব্যায়ামে উৎসাহিত করতে রেখেছে ‘গো ফর লাইফ’ প্রোগ্রাম। ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিডিও-নির্দেশিত প্রোগ্রামগুলো দিয়েই দুর্দান্ত সূচনা হতে পারে।
অভিভাবক বার্ধক্যে থাকলে কাছের মানুষের একটু সমর্থন আর উৎসাহ ব্যায়ামে অনিচ্ছুকদের জন্য ভীষণ সহায়ক। বয়স্ক মা-বাবার সঙ্গে ভিডিও দেখা, তদানুসারে চর্চার রুটিন করে ফেলা- এসবই এগিয়ে দেবে অনেকটা। হাঁটতে বা দাঁড়াতে অক্ষম হলে চেয়ারে বসেও ব্যায়াম করা যায়।
করণীয়
*ব্যায়াম করতে প্রচেষ্টা লাগে, এটা ঠিক কিন্তু অসম্ভব নয়। স্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা দূরে রাখতে এবং পরিকল্পিত বার্ধক্যের জন্য এই প্রচেষ্টা ভালো।
*একা ব্যায়াম না করে কারও সঙ্গে ব্যায়াম করা আরও ফলপ্রসূ। কারণ আগ্রহ ধরে রাখা যায়।
*ব্যায়ামের কিছু নির্দিষ্ট জামাকাপড়, প্রয়োজনীয় হাঁটার জুতা, ঢিলেঢালা প্যান্ট, শার্ট কিংবা জ্যাকেটও খুব ব্যয়বহুল নয়, কিন্তু কার্যকরী।
* ইউটিউবে ব্যায়ামের ভিডিওগুলো দেখে কী করতে হবে তা নিশ্চিত না হলে ১০-১৫ মিনিটের জন্য বাড়িতেই ওয়ার্কআউট করার চেষ্টা করুন।
*অন্য কোনো কিছু ভালো না লাগলে- শুধু হাঁটুন। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে, সিঁড়িতে ওঠানামা করা, শপিংমলে হাঁটা বা হালকা ডাম্বেলের মতো সরঞ্জামসহ বা ছাড়াই যেকোনো ব্যায়াম করুন।
পরিশেষে এটি মাথায় রাখুন, নিয়মিত ব্যায়াম মেজাজ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের পথে এগিয়ে নেবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments