ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: মরিচা ধরা লোহায় কেটে গেলেই টিটেনাস টিকা নিতে হবে কি না—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। সামান্য কাটা লাগলেও অনেকেই দ্রুত টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি সবসময় এতটা সরল নয়।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মরিচার সঙ্গে টিটেনাসের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ লোহার ওপর মরিচা থাকলেই সেখানে টিটেনাস জীবাণু থাকে—এ ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
টিটেনাস বা ধনুষ্টঙ্কার হয় টিটেনাস নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে। এই জীবাণু সাধারণত মাটি, ধুলোবালি এবং পশুপাখির মলমূত্রে পাওয়া যায়। এটি প্রতিকূল পরিবেশেও দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো লোহার বস্তু দীর্ঘদিন মাটি বা নোংরা পরিবেশে থাকলে তাতে মরিচা পড়ে এবং একই সঙ্গে মাটির জীবাণু তাতে লেগে যেতে পারে। ফলে সেই বস্তু দিয়ে কেটে গেলে জীবাণু শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়।
শুধু মরিচা ধরা লোহা নয়, ছুরি, কাঁচ বা অন্য যেকোনো নোংরা বস্তু দিয়েও কেটে গেলে টিটেনাসের ঝুঁকি থাকতে পারে।
টিটেনাসকে “লক-জ” নামেও বলা হয়। এতে চোয়াল শক্ত হয়ে যায়, মুখ খুলতে সমস্যা হয়, গিলতে কষ্ট হয়। পাশাপাশি পেশিতে খিঁচুনি, তীব্র ব্যথা ও জ্বর দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা না নিলে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিটেনাস ভ্যাকসিন সাধারণত ১০ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে। শেষ ডোজ নেওয়ার ১০ বছর পার হলে এবং গভীর ক্ষত হলে দ্রুত বুস্টার ডোজ নেওয়া উচিত। যদি ক্ষতে মাটি বা নোংরা লাগে এবং শেষ টিকা নেওয়ার ৫ বছরের বেশি সময় হয়ে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, কাজের সময় গ্লাভস ও জুতো ব্যবহার করা উচিত। কেটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার পানি দিয়ে ক্ষত ধুয়ে ফেলতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিটেনাস ভয়ংকর হলেও এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তাই কেটে গেলে অবহেলা না করে দ্রুত সঠিক ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
























Recent Comments