ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: চারদিকে শোনা যাচ্ছে নির্মাণশ্রমিকদের হাতুড়ি, পেরেক ঠোকার শব্দ। কেউ বা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তে স্টল ও প্যাভিলিয়ন রং করার কাজে। কেউ আবার ব্যস্ত স্টলের আলোকসজ্জার খুঁটিনাটি প্রস্তুতে। সব মিলিয়ে রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু চায়না-বাংলাদেশ এক্সিবিশন সেন্টারের মাঠে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার জন্য এখন প্রায় প্রস্তুত ব্যবসায়ীরা। কাল রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেলার উদ্বোধন করবেন।

প্রতিবছরের ১ জানুয়ারি থেকে বাণিজ্য মেলা শুরু হলেও এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে মেলার সময় পেছানো হয়। তবে এতে যেন মেলার জৌলুস ও কার্যক্রমে কোনো ভাটা না পড়ে, সে জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মেলার উদ্বোধন ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলন করবেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আয়োজনে তৃতীয়বারের মতো মেলার এ আসর বসতে যাচ্ছে রূপগঞ্জের পূর্বাচলের উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরে। গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, মেলার উদ্বোধন সামনে রেখে সব প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। স্টল নির্মাণের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। যদিও এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ স্টল-প্যাভিলিয়ন নির্মাণের কাজ পুরোটা শেষ হয়নি। মেলার প্রধান ফটক ও প্রবেশদ্বার নির্মাণের কাজ এখনও চলছে। মেলার মূল অবকাঠামোর বাইরে চলছে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়ন নির্মাণের কাজ।
মেলা কর্তৃপক্ষ বলছে, পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এক্সপ্রেসওয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার দর্শনার্থীরা এবার নির্বিঘ্নে মেলায় আসতে পারবেন। তবে এশিয়ান বাইপাস সড়কের কাজ চলমান থাকার কারণে রূপগঞ্জ, নরসিংদী, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ সদর, ভৈরবসহ এসব অঞ্চল থেকে আসা দর্শনার্থীরা যানজটের কারণে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। ইপিবির অতিরিক্ত সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক বিবেক সরকার বলেন, আয়োজন সফল করতে প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান বলেন, উদ্বোধনের আগে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ স্টল নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে যাবে। মেলার ভেতরে ও বাইরে দর্শনার্থীর নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। মেলাজুড়ে প্রায় ৩০০ সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
জানা গেছে, এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মোট ৩৩০টি স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন থাকছে। এর মধ্যে ১৫ থেকে ১৮টি বিদেশি স্টল রয়েছে। বরাবরের মতো এবারও ভারত, পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা মেলায় অংশ নিচ্ছেন।
ইপিবি সূত্রে জানা যায়, গত বছর মেলায় ১০০ কোটি টাকার পণ্য বেচাকেনা করেছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া তাৎক্ষণিক রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে ৩০০ কোটি টাকার। মেলায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছিল। ২০২৩ সালে মেলায় প্রবেশের টিকিটের দাম ছিল বড়দের জন্য ৪০ আর শিশুদের জন্য ২০ টাকা। এ বছরও টিকিটের দাম একই থাকবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments