সোমবার, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআজকের সংবাদসরকারি ছুটির মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন চালু করা সম্ভব না: মিনহাজ ইমন
spot_img
spot_img

সরকারি ছুটির মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন চালু করা সম্ভব না: মিনহাজ ইমন

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, শেয়ারবাজার বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি মানসিক যন্ত্রনায় আছে ব্রোকাররা। আমরা চাই বাজারটি খুলে যাক। এছাড়া খোলার অপেক্ষায় আছি। কিন্ত করোনাভাইরাসের বাস্তবতায় সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে কয়েক ধাপে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে অন্যান্য দেশে রাষ্ট্রীয় ছুটির পরিবর্তে লক ডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অন্যসব দেশের শেয়ারবাজার চালু রাখা সম্ভব হলেও আমাদের দেশে সম্ভব না। কারন সরকারি ছুটির সঙ্গে সঙ্গে আইনগতভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এর আওতায় বিএসইসি, সিডিবিএল ও স্টক এক্সচেঞ্জও রয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, শেয়ার বাজার অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র যা বিশ্ব স্বীকৃত৷ দৈনিক লেনদেনের ভিওিতে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন৷ এখানে হাজার হাজার লোক কর্মরত৷ স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম শুধুমাত্র মতিঝিল বা ঢাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই কার্যক্রম চলে পুরো দেশজুড়ে৷ যেখানেই এই কার্যক্রম চলে, সেখানেই লোক সমাগম হয়। বর্তমান ২৮টি জেলাশহর লকডাউন ঘোষনা করেছে৷ রাজধানীর এলাকা ভিওিক অনেক জায়গায় লকডাউন করা হয়েছে এবং প্রতিদিনই নতুন নতুন জেলা ও এলাকা লকডাউনের আওতায় আসছে৷ সেই সাথে নতুন আক্রান্তের হারও বাড়ছে৷ এছাড়াও বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে কোম্পানির তথ্য উপাওের ভিওিতে৷ সরকারী সাধারণ ছুটি থাকায় তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির তথ্য উপাও তাদের অজানা৷

তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের শেয়ারবাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের কিছু পার্থক্য রয়েছে। অন্যান্য দেশে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান একক সত্ত্বা হলেও আমাদের এখানে ভিন্ন। বাংলাদেশে বিএসইসির আইনী বিষয়গুলো এবং সিডিবিএলের উপর লেনদেন নিষ্পত্তির বিষয় নির্ভর করে। ফলে এ দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শেয়ারবাজার খোলা রাখা সম্ভব না। এছাড়া ছুটির মধ্যে ব্যাংকের লেনদেন সময় সীমিত করা হয়েছে।  এই পরিস্থিতিতে স্টক এক্সচেঞ্জের দৈনিক ৩০০-৪০০ কোটি টাকার লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব না। ডিএসইর লেনদেন অটোমেটেড হলেও আন্তর্জাতিক মানের হয়নি বলে জানান মিনহাজ মান্নান ইমন।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজারের সঙ্গে জড়িত কিছু অংশ লেনদেন চালু করার পক্ষে। তবে বাস্তবতার নিরিখে তা সম্ভব না। লেনদেন চালু করতে গেলেই জনবল ও বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতির প্রয়োজন পড়বে। যা চলমান পরিস্থিতির কারণে জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লেনদেন চালু করা সম্ভব হবে না। এছাড়া অনেকে চাইলেও ছুটিতে গ্রামে চলে যাওয়ায় উপস্থিত হতে পারবে না। তাই সরকারি ছুটির মধ্যে লেনদেন চালু করা সম্ভব না বলে তারা মনে করেন।

ডিএসইর আরেক পরিচালক মোঃ শাকিল রিজভী বলেন, লেনদেন চালু করা দরকার হলেও সেই সক্ষমতা আছে বলে মনে হয় না। কারণ লেনদেন চালু করতে মেইন কম্পিউটারটা (ম্যাচিং কম্পিউটার) পরিচালনা করতেই ২০-২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দরকার পড়ে। যাদেরকে স্বশরীরে উপস্থিত হতে হয়। এছাড়া লেনদেন কার্যক্রম চালাতে প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউজে লোকবলের দরকার। কিন্ত সরকারি ছুটির কারনে অনেকেই নিরাপদ অবস্থানে আছেন৷ তারা চলমান পরিস্থিতিতে হাউজে উপস্থিত হবে কি করে। এই পরিস্থিতিতে লেনদেন চালু করার ক্ষেত্রে অনেকগুলো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হল সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। দেশের লকডাউন পরিস্থিতি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা দেওয়া বা অফিসের কর্মচারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়টাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন৷ ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ চালু না রাখাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পালন করা৷ জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে ব্যবসা বাণিজ্য বড় নয়৷ বেঁচে থাকলে অনেক ব্যবসা করা যাবে৷ 

একই প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জীবনের চেয়ে আর কিছু বড় হতে পারে না৷ সরকারের সাধারণ ছুটির সাথে স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম বন্ধ রাখা সঠিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ৷

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার জনণনের নিরাপওায় সাধারণ ছুটি ঘোষনা করেছে৷ যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দুরদর্শী চিন্তা ভাবনা৷ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ ছুটি ঘোষনার সাথে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এর সভাপতি একাত্বতা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরাও চাই লেনদেন চালু হক। কিন্ত সরকারি ছুটি থাকলে সেটা কিভাবে সম্ভব জানি না। সরকারি ছুটির কারণে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন৷ এছাড়া বিভিন্ন এলাকা লক ডাউনে রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকায় লকডাউনের আওতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে চাইলেই লক ডাউন ভেঙ্গে সবাই চলে আসতে পারবে না। ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ব-শরীরে উপস্থিতি দরকার হলেও সেটা সম্ভব হবে না। এছাড়া ডিএসই অটোমেটেড হলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো সেভাবে অভ্যস্ত না। ফলে তাদেরকেও ব্রোকারেজ হাউজে আসতে হবে। কিন্ত এই মহামারির মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেটা করা কি ঠিক হবে?

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/ এম এইচ

 

 

 

 

 

 

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments