শনিবার, ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআন্তজার্তিকহরমুজ প্রণালি খুললে ইরানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
spot_img
spot_img

হরমুজ প্রণালি খুললে ইরানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধ করা হলে দেশটির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সদ্যঘোষিত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শীর্ষ এক সূত্রের বরাতে চ্যানেল আল এরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সম্প্রতি তেহরান সফরের সময় ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাব ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন।

সফরকালে আসিম মুনির ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলটির প্রতিবেদনে ওই বৈঠকের আলোচনা ‘স্পষ্ট ও নির্ণায়ক’ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন এই প্রস্তাবকে চলতি বছরের জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) কিছু উপাদান পুনরুজ্জীবিত করার পৃথক কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই সমঝোতার অন্যতম লক্ষ্য ছিল দুই দেশের বৈরিতা কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শর্ত হলো—বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে ইরানকে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধের নিশ্চয়তাও দিতে হবে।

এর বিনিময়ে গত ২৪ আগস্ট মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধের অভিযান স্থগিত বা বাতিল করা, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর চলমান নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবের পরও ইরান তাদের মূল দাবিগুলো থেকে সরে আসেনি। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।

এ ছাড়া সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আটকে থাকা ১০০ থেকে ১২৩ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং লেবানন ও গাজাসহ অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার দাবিও জানিয়েছে ইরান।

গত ২৪ আগস্ট মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে কঠোর সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর আওতায় ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও শিপিং খাতসহ দেশটির অবশিষ্ট অর্থনৈতিক ভিত্তিগুলোকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসেন্ট বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘কন্টেইনমেন্ট’ বা নিয়ন্ত্রণের নীতিতে রাখার চেষ্টা করেছে। এখন সেই নীতি থেকে সরে এসে তেহরানের সামনে বৈশ্বিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া অথবা স্বাভাবিক অর্থনীতিতে ফিরে আসার পথ বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের মাধ্যমে নতুন এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছে।

এর আগে জুনে ৬০ দিনের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার আওতায় মার্কিন নৌ-অবরোধ সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছিল এবং ইরানও হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে উন্মুক্ত করেছিল। পরে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললে সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়।

সর্বশেষ মার্কিন প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে মহসেন রেজাই পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে জানিয়েছেন, তেহরান বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন একতরফা নিষেধাজ্ঞার কারণে বেইজিং ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক পরিবর্তন করবে না।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করে কোনো টেকসই সমঝোতা হলে বৈশ্বিক তেলবাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত এবং ইরানের পাল্টা দাবির মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো এখনো কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments