ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করতে একাধিক সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন কোম্পানির যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার প্রক্রিয়া ১৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আগামী বছরগুলোতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটকে তিনি যুগান্তকারী ও ভবিষ্যতমুখী হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও অপচয় কমিয়ে অবকাঠামো এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া।
তিনি জানান, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সম্পদের কার্যকর ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বিনিয়োগের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার থেকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ বর্তমানের প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩২ থেকে ৩৩ শতাংশে নিতে হবে। একই সঙ্গে ইনক্রিমেন্টাল ক্যাপিটাল আউটপুট রেশিও (আইসিওআর) কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও পণ্যের দাম কমাতে লজিস্টিক ব্যয় ১৬ শতাংশ থেকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, টার্মিনাল আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কমানো এবং আধুনিক তথ্যভিত্তিক বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি খাতের উন্নয়নে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড যানবাহারের ব্যবহার বৃদ্ধি, নতুন এফএসআরইউ সংযোজন এবং শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ব্যবসা সহজীকরণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগে একটি নতুন কোম্পানি কার্যক্রম শুরু করতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগলেও এখন প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সেই সময় কমিয়ে এলসি খোলার পর্যায়ে মাত্র ১৪ দিনে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফায়ার লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক করা হচ্ছে। ফলে দেশের যেকোনো ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন এলাকার উদ্যোক্তারা ঘরে বসেই একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন, ফি পরিশোধ এবং ট্রেড লাইসেন্স ডাউনলোড করতে পারবেন। পাশাপাশি আরজেএসসি ও শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হচ্ছে।
চামড়া ও পাট খাতের উন্নয়নেও সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সাভারের ট্যানারিগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের এলডব্লিউজি (LWG) গোল্ড সনদ অর্জনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে দেশের চামড়া রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যায়। একই সঙ্গে চীনের সহযোগিতায় পাট গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা এবং বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতকে বহুবিলিয়ন ডলারের রপ্তানি শিল্পে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং অর্থনীতি টেকসই প্রবৃদ্ধির নতুন ধাপে প্রবেশ করবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ





























Recent Comments