বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeজাতীয়৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে অবস্থা হতে পারে ঢাকার
spot_img
spot_img

৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে অবস্থা হতে পারে ঢাকার

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর বাংলাদেশেও বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূতাত্ত্বিক অবস্থান ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর একটি।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশের আশপাশে থাকা কয়েকটি সক্রিয় ভূ-চ্যুতি বা ফল্ট লাইনে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে ডাউকি ফল্ট, মধুপুর ফল্ট এবং সিলেট-কক্সবাজার অঞ্চলের টেকটোনিক প্লেটগুলোতে জমে থাকা শক্তি ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, দেশের পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন ভূমিকম্প হলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার মাত্র ১ শতাংশ ভবন ধসে পড়লেও প্রায় ৬ হাজার ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হতে পারে। এতে কয়েক লাখ মানুষ হতাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

এদিকে ২০০৯ সালে জাইকা ও সিডিএমপির যৌথ জরিপে বলা হয়েছিল, রাজধানীতে ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানলে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। এছাড়া এক লাখের বেশি ভবন আংশিক বা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার অধিকাংশ ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। সরু সড়ক, অপরিকল্পিত আবাসন, দুর্বল অবকাঠামো এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারীর মতে, রাজধানীর মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত শনাক্ত করে শক্তিশালী করা না গেলে বড় ধরনের ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতি কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ক্ষতি কমাতে ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত মহড়া, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। একই সঙ্গে স্কুল-কলেজ ও কর্মস্থলে ভূমিকম্প মোকাবিলা বিষয়ক প্রশিক্ষণ চালু করারও তাগিদ দিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে আগাম প্রস্তুতি, নিরাপদ অবকাঠামো এবং কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments