সোমবার, ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeএক্সক্লুসিভগ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের এ কী হাল!
spot_img
spot_img

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের এ কী হাল!

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের অধিকাংশ বীমা কোম্পানি গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ, দাবি পূরণে অস্বচ্ছতা, উদাসীনতা, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ায় এই খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা, আগ্রহ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ফলে ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও অনেকেই বীমা করতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। যেকারণে দেশের স্বাধীনতা পরবর্তী অর্ধশত বছর অতিবাহিত হলেও চোখে পড়ার মতো এই খাতের উন্নয়ন হয়নি। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি গ্রীন ডেল্টা তুলনামূলকভাবে অনেক কোম্পানির চেয়ে বিগত বছরগুলোতে ভালো করলেও বিদায়ী বছরে (২০২৪) ব্যবসায়িকভাবে ও বীমা দাবি পূরণে তেমন সফলতা দেখাতে পারেনি। তাহলে কী গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সেও অসৎ উপায় অবলম্বন করছে?, প্রশ্ন জেগেছে সংশ্লিষ্টদের মনে।

জানা গেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স গত বছরের (২০২৪) শুরুর দিকে বিগত বছরের বীমা দাবি পরিশোধের ভিত্তিতে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার কর্তৃক পুরস্কার লাভ করে। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে গ্রাহকদের সেই বীমা দাবি পূরণে কোম্পানিটি তেমন সফলতা দেখাতে পারেনি। শুধু তাই নয়, শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) থেকে শুরু করে শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস), প্রায় সকল ক্ষেত্রে কোম্পানিটি নিম্নগামী ছিল।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের এক বছরের ব্যবধানে গ্রাহকদের বীমা দাবি পূরণ কমেছে ১৬ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশ। ২০২৩ সালে কোম্পানিটি গ্রাহকদের বীমা দাবি পূরণ করেছে ৪৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আর ২০২৪ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৩১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

তথ্য বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, বিদায়ী বছরে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৭০ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছিল ৬০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আর বিদায়ী বছরে এসে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি ২০ লাখ টাকা। গ্রীন ডেল্টার সঞ্চিতি আয় বা রিজার্ভও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিদায়ী বছরে রিজার্ভ এসে দাঁড়িয়েছে ৩৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর আগের বছর যা ছিল ৪১৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ কমেছে ৫০ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ১২ শতাংশ।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমেছে দশমিক ০৭ টাকা। ২০২৩ সালে ইপিএস ছিল ৬ দশমিক ০৭ টাকা। আর ২০২৪ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ০১ টাকা। গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের প্রকৃত সম্পদ মূল্যের পাশাপাশি বাজার মূলধনও কমেছে। ২০২৩ সালে কোম্পানিটির এনএভিপিএস ছিল ৭১ দশমিক ৪২ টাকা। আর ২০২৪ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ২৪ টাকা। বছরের ব্যবধানে এনএভি কমেছে ৩ দশমিক ১৮ টাকা। আর বাজার মূলধন কমেছে ১৬৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ৬৫৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। আর ২০২৪ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৪৮৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এদিকে ইন্সুরেন্সটিতে বীমা করার প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ কমেছে, যা গত দুই বছরের গ্রোস প্রিমিয়াম আয়ের পরিমাণ দেখলেই বোঝা যায়।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির গ্রোস প্রিমিয়াম ইনকাম বা আয় ছিল ৪৫৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর ২০২৪ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৪১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বছরের ব্যবধানে গ্রোস প্রিমিয়াম ইনকাম বা আয় কমেছে ৪৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ১০ শতাংশ।

গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অনেক কমেছে। ৩০ জুন ২০২৪ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৪৭ দশমিক ৭০ টাকা। আর ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৭০ টাকা। বছরের ব্যবধানে শেয়ার দর কমেছে ৭ টাকা বা ১৪ শতাংশের বেশি।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদুর রহমান ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদনে গরমিল দেখায়। এক্ষেত্রে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স তাদের আর্থিক আর্থিক প্রতিবেদনে গরমিল দেখিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। গত এক বছরে কোম্পানিটির পারফর্মেন্স মোটেও সন্তোষজনক নয়। শেয়ার দরও কমেছে যথেষ্ট।

এদিকে এসব ব্যাপারে জানতে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের কোম্পানি সচিব অলিউল্লাহ্ খান, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও), অলিউল আহবাব, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানাহ চৌধুরী ও চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠালেও তার উত্তর দেননি।

উল্লেখ্য, গ্রীণ ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি এক লাখ ৮৮ হাজার ১৯৪টি, যার মধ্যে সাধারণ, উদ্যোক্তা, বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে যথাক্রমে ৪৩ দশমিক ৫২ শতাংশ, ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ, ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ ও ২১ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments