
ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক:
আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের কাগজ পত্রাদি জাল-জালিয়াতি করে জামিন করানো জামিন জালিয়াতি চক্রের মূল হোতাসহ ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। গতকাল মঙ্গলবার চক্রটির মূল হোতা মো. দেলোয়ার হোসেনসহ তার অপর ২ সহযোগী এবিএম রায়হান ও মো. শামীম রেজাকে রংপুরের পীরগাছা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণ ইউনিটের একটি দল।
এসময় তাদের কাছ থেকে জামিন জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হাইকোর্ট, জজ কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, ডেপুটি জেলারসহ আরও অন্যান্যদের মোট ৪৩টি ভুয়া সীল ও ১টি কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে।
সিআইডি বলছে, এ চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে বিচারকের জাল স্বাক্ষর বা সিল ব্যবহার করে বিভিন্ন মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, অভিযোগপত্র ইত্যাদি সুবিধামত ভুয়াভাবে তৈরি করে হাইকোর্ট বিভাগ হতে আসামিদের জামিনে মুক্ত করার কাজে লিপ্ত ছিল।
সিআইডি জানিয়েছে, ২০১৪ সালে অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত ঘটনায় রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা রুজু হয়। রাজবাড়ী সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারনামীয় আসামি মো. ইয়ার আলী ওরফে ইয়াদ আলী ওরফে খোরশেদ ওরফে বিল্লালের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন (সংশোধনী ২০০২) এর ১৯-ক/১৯-চ ধারায় অভিযোগ পত্র আদালতে দাখিল করেন। আসামি এই মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ায় প্রতারক চক্র অ্যাডভোকেট মুসরোজ ঝার্ণা সাথীর মাধ্যমে মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, অভিযোগ পত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নতুনভাবে তৈরি করে হাইকোর্ট বিভাগে জামিনের আবেদন করেন।
জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগের আপিল আদালত আসামি মো. ইয়ার আলীকে ছয় মাসের অন্তঃবর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন।
বিজ্ঞ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহম্মেদ মামলার মূল কাগজপত্র যাচাই কালে জাল-জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে পেশ করলে আদালত উক্ত আসামির জামিন আদেশটি বাতিল করে জালিয়াতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ প্রদান করেন।
আদেশ মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্টার বাদী হয়ে অ্যাডভোকেট মুসরোজ ঝর্ণা সাথী ও শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানার মামলা নং-১৮(১০)১৬, ধারা- ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ পেনাল কোড দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্তভার পড়ে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণ বিভাগের ওপর। সিআইডির একটি টিম ঢাকার নবাবগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে হারুন-রশিদ নামে একজনকে গ্রেফতার করে। তিনি সেখানকার স্থানীয় জনৈক আব্দুল জব্বারের ছেলে। আদালতে তার দেয়া জবানবন্দীর পরিপ্রেক্ষিতে এই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।
তাদের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। মামলাটি সিআইডির ঢাকা মেট্রো- দক্ষিণ বিভাগের নিকট তদন্তাধীন রয়েছে।
























Recent Comments