নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর প্রতি আস্থা, বিশ্বাস বেশি থাকে বিনিয়োগকারীদের। কারণ তাদের ধারণা, অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে সুশাসন (গুড গভর্নেস) বেশি থাকে। কিন্তু সেই মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতেই যদি সুশাসন ও দক্ষতার ঘাটতি থাকে তবে তা বিনিয়োগকারীদের জন্য চরম হতাশার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। দুঃখজনক হলেও সত্য, ঠিক তেমনই একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, যার সততা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। দিনকে দিন কোম্পানিটির প্রতি তারা আস্থা হারাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বাটা সু’র আর্থিক অবস্থা ভালো নেই। কোম্পানিটি আশাঙ্কাজনক হারে লোকসান করেছে। কিন্তু ন্তু এই লোকসান নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
তাদের মতে, বাটা সু একটি উন্নতমানের কোম্পানি। এই কোম্পানির লোকসান হওয়ার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু মূলত সরকারকে কর ফাঁকি এবং আগামীতে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড) কম অথবা না দেওয়ার উদ্দেশ্যে লোকসান দেখাতে শুরু করেছে, যা মোটেও একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির জন্য শুভকর নয়। বাটা সু’র মতো কোম্পানি যদি অসৎ উদ্দেশ্যে লোকসান দেখায় তবে অন্যান্য মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোও তা অনুসরণ করতে পারে। আর এমনটি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুঁজিবাজারে।
(বাটা সু’র অনিয়ম নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশ করা হলো প্রথম পর্ব। খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় পর্ব।)
জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর,২০২৫) আশঙ্কাজনক হারে লোকসান করেছে কোম্পানিটি। তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান হয়েছে ১৪ কোটি ৪৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৮ টাকা। এর আগের বছরের একই সমযে একই সময়ে (জুলাই-সেপ্টেম্বর,২০২৪) যা ছিল ১২ কোটি ৭৮ লাখ ২৩ হাজার ৩২১ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে লোকসান বেড়েছে এক কোটি ৬৫ লাখ ৮১ হাজার ৪৭ টাকা বা ১৩ শতাংশ। আর তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১০ টাকা ৫৬ পয়সা। আর এর আগের বছর যা ছিল ৯ টাকা ৩৪ পয়সা।

এদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে বলেন, বাটা সু নিয়ে শেয়ার কারসাজি হচ্ছে। আর এই কারসাজিতে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ দায়ি থাকতে পারে। এখনই তদন্ত সাপেক্ষ এই কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা উচিত সংশ্লিষ্টদের। নতুবা এই শেয়ার কারসাজির খপ্পরে পড়ে কোটি কোটি টাকা লোকসানের কবলে পড়তে হবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর, ২০২৫) কোম্পানির স্থায়ী সম্পদ, মেশিনারিজ বিক্রয় বাবদ লোকসান হয়েছে ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৩ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে লোকসান হয়েছিল
এদিকে কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত কোম্পানির পিই (প্রাইস/আর্নিংস) রেশিও ৪০ থেকে ৫০ পয়েন্ট হলে সেই কোম্পানিতে বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু যদি পিই রেশিও ৫০ পয়েন্টের চেয়ে বেশি হয় তবে সেই কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী সোমবার (০৯ মার্চ) বাটা সু’র পিই রেশিও এসে দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ৩১ পয়েন্ট।
অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগকারী বাটা সুতে এখন বিনিয়োগ করলে সেই বিনিয়োগ লভ্যাংশ আকারে উঠিয়ে নিতে তার ৬৬ বছরের বেশি সময় লাগবে। এমন প্রেক্ষাপটে কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে।
এদিকে সদ্য বিদায়ী বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানির ইন্টারেস্ট অন শর্ট টার্ম ডিপোজিট হয়েছে ৪ কোটি ৩৪ হাজার ৮৬০ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫ কোটি দুই লাখ ২৩ হাজার ৫৮১ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির ইন্টারেস্ট অন শর্ট টার্ম ডিপোজিট কমেছে এক কোটি এক লাখ ৮৮ হাজার ৭২১ টাকা বা ২০ শতাংশ।

কোম্পানির ইন্টারেস্ট অন শর্টটার্ম ডিপোজিট কমে যাওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
বাটা সু’র কোম্পানি সেক্রেটারি রিয়াজুর রেজা মুহাম্মদ ফয়সালকে এসব ব্যাপারে জানতে ফোন করা করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন এবং পরে যোগাযোগ করবেন বলে জানান। পড়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর দেননি তিনি।
উল্লেখ্য, বাটা সু’র পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যেখানে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মোট মালিকানা রয়েছে ৩০ শতাংশ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ























Recent Comments