ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বাংলাদেশের খাবারের পাতে ভাতের সঙ্গে কাঁচা মরিচ যেন এক চিরচেনা দৃশ্য। অনেকের কাছে এটি শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ানোর উপকরণ হলেও, পুষ্টিবিদদের মতে কাঁচা মরিচে রয়েছে এমন কিছু উপাদান, যা শরীরের জন্য নানা দিক থেকে উপকারী হতে পারে।
কাঁচা মরিচের ঝালের মূল উৎস হলো ক্যাপসাইসিন, একটি প্রাকৃতিক যৌগ যা শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান, যা সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের সঙ্গে পরিমিত কাঁচা মরিচ খেলে শরীরের ক্যালোরি পোড়ানোর প্রক্রিয়া কিছুটা ত্বরান্বিত হতে পারে। ক্যাপসাইসিন শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বাড়িয়ে বিপাকক্রিয়া সক্রিয় করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
কাঁচা মরিচ লালারস ও পাচকরস নিঃসরণ বাড়িয়ে খাবার হজমে সহায়তা করতে পারে। তবে যাদের গ্যাস্ট্রিক, আলসার বা অতিরিক্ত অম্লতার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাঁচা মরিচ অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
কাঁচা মরিচে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষয় কমাতে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাপসাইসিন রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। ফলে হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও পরিমিত কাঁচা মরিচ উপকারী বলে মনে করা হয়।
ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ঝাল খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে ‘ফিল-গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মনকে চনমনে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাত বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে প্রতিদিন ১ থেকে ২টি কাঁচা মরিচ বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য যথেষ্ট। খালি পেটে কাঁচা মরিচ খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
অতিরিক্ত কাঁচা মরিচ খাওয়ার ফলে পেটে জ্বালাপোড়া, গ্যাস, বদহজম এবং অন্ত্রের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই উপকার পেতে হলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম



























Recent Comments