মঙ্গলবার, ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআন্তজার্তিকহরমুজে ফের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, বাড়লো তেলের দাম
spot_img
spot_img

হরমুজে ফের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, বাড়লো তেলের দাম

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।

প্রায় এক মাসের বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে আবারও সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজার ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে। তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে, অন্যদিকে দরপতন হয়েছে ওয়াল স্ট্রিটে।

গেল শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পরদিন রোববার হরমুজের কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এক মাসের বেশি সময় পর ইরানের ভূখণ্ডে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা।

হামলায় সেনা ও বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে দাবি করে এর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। পরে রোববার রাতে জর্ডানে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান। একই দিনে একটি ইরানি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত।

দুই দেশের নতুন করে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ৩৫ সেন্ট বা ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে ৯০ ডলার ৪৫ সেন্টে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে দাম ৯১ ডলার ৫২ সেন্টে উঠেছিল, যা গত ২৫ আগস্টের পর সর্বোচ্চ।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের প্রধান মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ২ ডলার ৩১ সেন্ট বা ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার ৭১ সেন্টে পৌঁছায়। গত মাসে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ থেকে ১০২ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করেছে।

ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আবার সামরিক হামলা শুরু হওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই তেলের দাম বাড়িয়েছে। এখন বাজারের নজর থাকবে পরিস্থিতি উত্তেজনা কমানোর দিকে যায় কি না, সেদিকে।

বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে সংঘাত শুরুর পর প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে প্রণালিতে দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা দৈনিক মাত্র পাঁচটিতে নেমে আসে। হামলার আশঙ্কায় জাহাজ পরিচালনাকারীরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। তবে সেখানে হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিওও যুক্ত ছিল।

ইরান অবশ্য খার্গ দ্বীপে হামলার খবর অস্বীকার করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেখানে তেল-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে পরোক্ষ বা দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও। ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। ডাও জোন্স শিল্প গড় ৩৪৮ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ এবং নাসডাক শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হারিয়েছে।

এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর প্রায় সব খাতের শেয়ার দর হারালেও তেল কোম্পানিগুলোর শেয়ারে উত্থান দেখা গেছে। এক্সনমবিলের শেয়ারদর ২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং শেভরনের ৩ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারে অবশ্য মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments