রবিবার, ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeখেলা-ধুলাহাজার বাধা পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে ক্রিকেটার স্বর্ণা
spot_img
spot_img

হাজার বাধা পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে ক্রিকেটার স্বর্ণা

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: প্রথমবার আয়োজিত নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সুপার সিক্স নিশ্চিত করেছে নারী ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে যারা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে একজন জামালপুরের স্বর্ণা আক্তার।

স্বর্ণা দলের সহ-অধিনায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিজামালপুর পৌর শহরের কাচারীপাড়া মুসলিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম বাদল মিয়া, মায়ের নাম শাহিদা বেগম। বাবা-মায়ের চার সন্তানের মধ্যে স্বর্ণা সবার কনিষ্ঠ। বাদল মিয়া পেশায় একজন নরসুন্দর, মা গৃহিণী। বড় ভাই বিবাহিত, ক্ষুদ্র বিক্রেতা। ছোট ভাই বেকার। বড় বোন সোহানা আক্তারের বিয়ে হয়েছে নেত্রকোণার মদনপুর। অতিদরিদ্র ভূমিহীন পরিবারের সন্তান তারা।

স্বর্ণার মা শাহিদা বেগম জানান, তারা কাচারীপাড়া মুসলিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম মিলনের বাসায় ভাড়া থাকেন। ৬ সদস্যের পরিবারের সংসারে বাবা সারাদিনে যতটুকু আয়-রোজগার করেন, তা দিয়েই চলে সংসার। শৈশব থেকে তাদের দিন কাটে অনাহারে-অর্ধহারে। স্বর্ণা সিংহজানী কাচারীপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি শেষ করে সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছেন।

ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণার খেলার প্রতি ঝোঁক ছিল খুব বেশি। লেখাপড়ার ফাঁকে সে ক্রিকেট খেলতো। স্বর্ণার সর্ম্পকে মামা হন- জুয়েল মিয়া নামের একজন অপেশাদার ক্রিকেটার। তিনি প্রতিদিন স্বর্ণাকে ক্রিকেট খেলা শেখাতেন। তিনিই তার খেলার ওস্তাদ। কিন্তু দরিদ্র ঘরের সন্তান হিসাবে স্বর্ণার ক্রিকেট খেলা পছন্দ করতেন না অধিকাংশ মানুষ। তাই ক্রিকেট খেলা অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। এজন্য প্রতিনিয়ত নানা জনের নানা কথা শুনতে হয়েছে। অনেক বকাঝকা করেও খেলা থেকে দমাতে পারেনি কেউ। মেয়ের জন্য আমি এবং তার বাবা অনেকের কাছে নানা কথা শুনে হজম করেছি।

আইসিসি উইমেন্স অনুর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশের পক্ষে আপনার মেয়ে ক্রিকেট খেলে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে সুনাম বইয়ে আনছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী- জানতে চাইলে শাহিদা বেগম প্রথমে খুশিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, ‘অভাবের সংসারে সন্তানদের কখনও তিনবেলা খাবার দিতে পারিনি। ভালা কাপড়চোপড় দিতে পারিনি। স্কুল থেকে আইসে মেয়েটা, না খাইয়ে খেলতে গেছে। খেলার জন্য মেয়েডারে অনেক বকাঝকা করছি, তাও মানে নাই খেলতে গেছে। আজ আমার মাইয়া ভালো খেলছে বলে যারা বাঁকা চোখে দেখছে, আজ তারা সবাই আইসে বলে তোমার মেয়ে খুব সুন্দর খেলতাছে।

স্বর্ণার বাবা বাদল মিয়া বলেন, আমার মেয়ে খুবই ভালো খেলছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলা ক্রীড়া সংস্থা কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা হয়নি। আমার মেয়ে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবেন এই প্রত্যাশাই করছি। আমি আমার মেয়ের প্রতি অত্যান্ত আনন্দিত এবং গর্বিত।

জামালপুরের সমাজসেবক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, স্বর্ণা দরিদ্র ঘরের সন্তান। নানা প্রতিবন্ধকতা হাজার বাধা সত্ত্বেও খেলা শিখে আজ আর্ন্তজাতিক বিশ্বে দেশের সুনাম বয়ে আনছে। তাই দেশের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ ও বাকস্বাধীনতা দিতে হবে। তাহলে দেশের উন্নয়ন দ্রুত ত্বরান্বিত হবে বলে বিশ্বাস করি।

জামালপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ বলেন, স্বর্ণা আমাদের মেয়ে। জামালপুরের মেয়ে হিসাবে আমি খুব আনন্দিত ও গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাধিকার দিয়ে খেলাধুলাসহ সকল ক্ষেত্রে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের সম্পৃক্ত করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই আমি তার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি স্বর্ণার প্রতি ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।

তিনি আরো বলেন, আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে সাধ্যমতো স্বর্ণার পরিবারের পাশে থাকায় সচেষ্ট থাকবো।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/ই.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments