রবিবার, ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeখেলা-ধুলাভুলে ভরা ব্যাটারদের খাতা
spot_img
spot_img

ভুলে ভরা ব্যাটারদের খাতা

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: যাদের দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা বাংলাদেশ, যাদের ব্যাট হাসবে বলে আশায় ছিল লাখো-কোটি সমর্থক, সেই তারাই কিনা ভুল পথে পা দিয়ে বিলিয়ে দেন নিজেদের মূল্যবান উইকেট। শুরুর ধাক্কা সামলে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম শতরানের একটা জুটিও গড়েছিলেন। সেই জুটির কোণে নতুন আলোর দেখাও পেয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু আশা দেখানো সাকিব-মুশফিকেরও বোধ হয় যাওয়ার তাড়া ছিল! না হলে কেন এত এত ওভার হাতে থাকার পরও অপ্রত্যাশিত শট খেলে ফিরবেন তারা।

তাদের আগে-পরে যারা দ্যুতি ছড়াবেন বলে অপেক্ষায় ছিলেন এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা, তারাও করলেন হতাশ। কেউ আলগা বলে ব্যাট লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন, কেউ বাতাসে বল ভাসিয়ে সাজঘরের পথ ধরেছেন। আবার কেউ শর্ট রান নেওয়ার বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে অক্কা পেয়েছেন! তাতে গতকাল লাহোরে সুপার ফোরের যাত্রা ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের খাতা ভরল ভুল দিয়ে।

পাকিস্তানের বড় শক্তি তাদের পেস আক্রমণ। এর আগে শক্তিশালী ভারতও টের পেয়েছিল ঝাঁজটা। তাই বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটা এক প্রকার কমনই ছিল। কিন্তু আগের দিন প্রতিপক্ষ পেসারদের নিয়ে পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো কিছু করা যায়নি। সেই পেসের ছোবলেই শেষ বাংলাদেশের ব্যাটাররা। শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ আর হারিস রউফ মিলে নিয়েছেন আট উইকেট। আরেক পেসার ফাহিম আশরাফ নেন একটি। সেই হিসাবে পেসারদের পেটে যায় ৯ উইকেট। অথচ তাদের সামলানোর জন্য বাংলাদেশের গতির সূত্র ঠোঁটস্থ থাকার কথা। দু-একজন সেই সূত্র ভুলে যেতেই পারেন। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু গড়পড়তায় বেশির ভাগই ভুলেছেন গতির সূত্র। অর্থাৎ পেসারদের গতির সামনে কীভাবে কী করতে হবে তাদের। কয়েকজনের আউট হওয়া দেখে দর্শকরা রীতিমতো অবাক হয়ে যান। যার মধ্যে লিটন দাস একজন। দারুণ ফর্মে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত চোটের কবলে পড়ায় তাঁর জায়গায় নামেন লিটন। এক দিনের ক্রিকেটে বেশ অভিজ্ঞ মুখ। তবু বেশিক্ষণ উইকেটে থাকার সময় হয়নি তাঁর। যে বলে আউট হয়েছিলেন, সেটা ডট হলে দোষের হতো না। এর পর অসময়ে তেড়েফুঁড়ে মারতে গিয়ে আক্ষেপ নিয়েই প্যাভিলিয়নে ফেরেন শামীম। নিয়মিত উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন বিপদে, তখন শামীম কিনা বলে বলে বাউন্ডারি হাঁকানোর পণ করেন। তাতে উল্টো মহাবিপদ ডেকে আনেন তিনি। এর পর মুশফিকও কিছু রান যোগ করে ভুল শটে কূল হারিয়েছেন। শেষ দিকে আফিফ হোসেনকে নিয়ে যাও আস্থা ছিল, তিনিও পারেননি সেই আস্থার প্রতিদান দিতে। ধরে খেলার বদলে ঝড় তুলতে গিয়ে নিজেই হয়ে যান হাওয়া! বাংলাদেশের ব্যাটারদের এমন খামখেয়ালিপনা আর অসময়ে অসতর্ক শটে রানের তরীটা নির্দিষ্ট একটা ঘাটেও পৌঁছাল না। মাত্র ১৯৩ রান তুলে ইনিংস শেষ করতে হয়েছে তাদের। এক দিনের ক্রিকেটে যেটা টাইগারদের জন্য লজ্জার। হোক না প্রতিপক্ষ ওয়ানডের নাম্বার ওয়ান। তাই বলে একটা সম্মানজনক স্কোরও হবে না। যে লাহোরে রানের বন্য বইয়ে যায়, যেখানে বোলারদের জন্য উইকেট পাওয়া কঠিন থেকে কঠিনতর, সেখানে বাংলাদেশি ব্যাটাররা একের পর এক ভুল করে পাকিস্তানের বোলারদের প্রাপ্তির ঝুলিটা করলেন পরিপূর্ণ।

পরিসংখ্যান সেই কথা বলবে, লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বুধবারের আগে চারবার তার বেশি উইকেট পাওয়া বোলার ছিলেন শোয়েব আকতার। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি পাঁচ উইকেট শিকার করেছিলেন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর সেখানে চার উইকেট নিলেন রউফ।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments