ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ফুটবলার ও কোচ, দুই ভূমিকায় মাঠ রাঙিয়েছেন মারিও জাগালো। একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে তিনি জয় করেছিলেন ৪টি বিশ্বকাপ। এবার চলে যাওয়ার মিছিলে নাম লেখালেন তিনি। ৯২ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমালেন ব্রাজিল ফুটবল ইতিহাসের এই কিংবদন্তি।

জাগালোর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, ‘অনেক দুঃখের সঙ্গে আমরা চারবার বিশ্বকাপজয়ী মারিও হোর্হে লোবো জাগালোর মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি।
১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য ছিলেন জাগালো। এরপর ব্রাজিলের কোচ হিসেবে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপও জিতেছেন। অনেকের বিচারে জাগালোর তৈরি করা ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা দল। সত্তরের পরে ১৯৯৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছিল। সেই দলের সহকারী কোচ ছিলেন জাগালো। তিনিই প্রথম খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপ জেতা ব্যক্তি ছিলেন। যে তালিকায় পরে যুক্ত হয়েছিলেন জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার এবং ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশ্যম।
এছাড়া ২০০২ সালে জাপান-কোরিয়ায় হওয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের বিশেষ পরামর্শক এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের অংশ হিসেবে ছিলেন জাগালো। সেই হিসেবে ব্রাজিলের সব বিশ্বকাপ দলেরই একজন ছিলেন এই কিংবদন্তি জাগালো।
১৯৯২ সালে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সর্বোচ্চ খেতাব ‘ফিফা অর্ডার অব মেরিট’ সম্মাননা পান তিনি। ২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ড সকার ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে তাকে মনোনীত করা হয় সর্বকালের নবম সেরা কোচ হিসেবে।
১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দলের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে এতদিন বেঁচে ছিলেন জাগালো। ফুটবল বিশ্বে ব্রাজিলের অন্যতম বড় শক্তি দল হিসেবে গড়ে উঠার পিছনে তার দারুণ ভূমিকা ছিল।
ব্রাজিল দলে জাগালোর অভিষেক হয় ২৬ বছর বয়সে। তার কিছুদিন পর তো ১৯৫৮ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশই হয়ে উঠেন। ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ৩৭ ম্যাচ। ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারানো ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি পেলেকে একটি গোল বানিয়েও দিয়েছিলেন তিনি।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ‘প্রফেসর’খ্যাত জাগালোর ব্যাপারে দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো বলেছেন, ‘তিনি তার প্রজন্মে ব্রাজিলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। চারবার বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে তার ছাপ চিরস্থায়ী হয়ে গেছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.


































Recent Comments